অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক

চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আদায়ের পর তা পাচারের অভিযোগের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের গ্রেফতার দেখান।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন– তৌফিকা করিম ও মো.কামরুজ্জামান।
এর আগে, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলাম গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করেন। ওইদিন আসামিদের উপস্থিতিতে গ্রেফতার দেখানোর জন্য সোমবার তারিখ ধার্য করেন আদালত।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছে বলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো বলেও এ অনুসন্ধানে উঠে আসে।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অভিযুক্ত তৌফিকা করিমের ‘ল’ ফার্ম সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নিয়মিতভাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শুধু ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই চক্রটি মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করে। এছাড়াও সিআইডির অনুসন্ধানে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়।
আরও বলা হয়, আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে তিনি ‘লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স’ নামে একটি এনজিও খোলেন। ওই এনজিওতে তৌফিকা করিমকে চেয়ারম্যান, মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং নিজে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদার অর্থ আদায় করা হতো। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ওই এনজিওর মাধ্যমে সর্বমোট ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। মামলাটির তদন্তের প্রাথমিকভাবে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।



