কয়েক বছরের পরিকল্পনায় ইরানে হামলা: মার্কিন জেনারেল কেইন

ইরানে চলমান সামরিক অভিযান হুট করে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি ছিল কয়েক মাস এবং ক্ষেত্রবিশেষে কয়েক বছরের সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির চূড়ান্ত প্রতিফলন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান এয়ার ফোর্স জেনারেল ড্যান কেইন এই তথ্য জানান।
জেনারেল কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনীগুলো ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে ব্যাহত, দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বাধীন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে সোমবার আরও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানান ড্যান কেইন। এই বিশাল সামরিক বহরে যোগ দিয়েছে কয়েক হাজার সেনাসদস্য, কয়েকশ উন্নত যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং আব্রাহাম লিঙ্কন ও ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ।
জেনারেল কেইন বিশেষভাবে উইসকনসিন, ভারমন্ট এবং ভার্জিনিয়া থেকে আসা ন্যাশনাল গার্ড ইউনিটগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন, যারা কুয়েত ও ইরাকে অবস্থান করে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
যৌথ হামলার শুরুর দিকেই সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ইরানের প্রধান প্রধান সিস্টেমগুলো অকেজো করে দেওয়া হয়েছিল। জেনারেল কেইন জানান, ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত ও দিশেহারা করতেই এই সাইবার অপারেশন চালানো হয়। এর ফলে ইরান হামলার মাত্রা বুঝতে এবং পাল্টা জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। গত সপ্তাহান্তে ইরানে ইন্টারনেট সেবা এবং সংবাদমাধ্যমসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জেনারেল কেইন বলেন, এই অভিযান ছিল অত্যন্ত গোপনীয়, যাতে শত্রুরা কেবল তিনটি জিনিসই দেখতে পেয়েচিল। আর তা হলো গতি, আকস্মিকতা এবং প্রচণ্ড আক্রমণ।
অভিযান শুরুর নাটকীয় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে জেনারেল কেইন জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্প বলেছিলেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি অনুমোদিত… গুড লাক (শুভকামনা)।”



