Uncategorized

চার্টার্ড ফ্লাইট যেন ‘সোনার হরিণ’

দুবাইয়ে ইরানের হামলায় বিপাকে সেখানে অবস্থান করা ধনকুবেররা। এয়ারপোর্ট বন্ধ হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে যেতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে ধনকুবেরদের ভরসা ব্যক্তিগত বিমান।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাঁকজমকপূর্ণ দুবাই শহরটি বিলিয়নিয়ার, ইনফ্লুয়েন্সার এবং লাখ লাখ আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য এক ধরনের বিনোদনকেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে দুবাইকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে ইরান। এতে শহরটির বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হোটেল ও স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র। এমতাবস্থায় উদ্বেগে রয়েছেন সেখানে থাকা ধনকুবেররা।

সোমবারও ইরান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটি তেহরানে অবস্থিত তাদের দূতাবাস বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

দুবাইয়ে অবস্থান করা অনেকেই ওমানের দিকে ছুটছে। গাড়ি চালিয়ে চার ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের পথ পাড়ি দিচ্ছে অনেকে। সেখানে তুলনামূলকভাবে খুব কম বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিলম্ব সত্ত্বেও মাসকাট বিমানবন্দর চালু রয়েছে।

বুকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মাসকাট থেকে ইউরোপগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের চলতি সপ্তাহের টিকেট বিক্রি শেষ।

দুবাইয়ে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন রুশ পর্যটক আলেকজান্দ্রা ভাভিলোভা। তবে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে তিনি সেখানে আটকা পড়েছেন। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে সোমবার রাতে একটি টিকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। মাসকাট থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটের টিকেট পেয়েছি।”

বাণিজ্যিক ফ্লাইটের যখন এমন দশা ঠিক তখন চাহিদা বেড়েছে ব্যক্তিগত বিমানের। এর জেরে মাসকাট থেকে প্রাইভেট জেটের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

মাসকাটভিত্তিক প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান জেটভিপ গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, সবচেয়ে ছোট জেট নেক্সট্যান্ট দিয়ে ইস্তাম্বুলে একটি ফ্লাইটের খরচ এখন প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো, যা স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় তিন গুণ। মস্কোগামী প্রাইভেট চার্টারের আসনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার ইউরো।

বেশ কয়েকটি প্রাইভেট জেট কোম্পানি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থার জন্য তারা সেখানে বর্তমানে বিমান পরিচালনা করতে পারছে না।

অস্ট্রিয়াভিত্তিক আল্বাজেট চার্টার ফার্মের এক প্রতিনিধি বলেন, “আমাদের উপলব্ধতা অত্যন্ত সীমিত। ইউরোপগামী ফ্লাইটের খরচ পড়ছে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো। অনেক অপারেটর বিমানের বিমা শর্তাবলী ও মালিকের সিদ্ধান্তের কারণে ফ্লাইট পরিচালনা করছে না। যাত্রীদের চাহিদা অনেক, সরবরাহ খুবই কম।”

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করা অনেকে ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদের দিকেও ছুটছেন। সেখানে এখনও বিমানবন্দরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সেমাফোর নিজেদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের রাজধানীতে গ্রাহকদের পৌঁছে দেওয়ার জন্য এসইউবি বহর বুক করছে। রিয়াদ থেকে গ্রাহকদের জন্য পরবর্তী প্রাইভেট ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে।

প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ ভিমানা প্রাইভেট জেটসের প্রধান নির্বাহী আমীর নারণ সংবাদ মাধ্যমটিকে বলেন, রিয়াদ থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইটের খরচ এখন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এদিকে, টালমাটাল এ পরিস্থিতিতে সোমবার রাষ্ট্রীয় বিমানে করে ইতালি পৌঁছেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোডিও ক্রসেতো, যা নিয়ে চলছে সমালোচনা। কারণ, শত শত ইতালীয় দুবাইয়ে আটকে রয়েছেন। 

পরিবার নিয়ে দুবাইয়ে ছুটি কাটাতে যান গোডিও। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া চলমান যুদ্ধের আগে শহরটিতে যান তিনি। রাষ্ট্রীয় বিমানে গোডিওর ইতালিতে যাওয়া দেশটির জনগণের মধ্যে বড় প্রশ্ন তুলছে। বিরোধী দলগুলো গোডিওর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে গোডিও দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমি আমার অফিসে আরও গুরুতর বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমি মনে করি না যে হাজার হাজার অন্য মানুষের মতো আটকে পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার পরিবার এখনও দুবাইয়ে আছে। নিজের টাকা দিয়েই আমি দেশে ফিরেছি।”




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button