নারীর অলংকারের জাকাতের কথা যেন ভুলে না যাই

জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর জাকাত ফরজ করা হয়েছে। জাকাত নামাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইসলামি বিধান। পবিত্র কোরআনে একাধিকবার নামাজ ও জাকাতের কথা বলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান কর…।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১১০) অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেবো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৬২)
আল্লাহ তায়ালা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘তোমরা সালাত আদায় করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’ (সুরা নূর, আয়াত: ৫৬) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনার দোয়া তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৩)
উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে জাকাত আদায়ে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও আমরা অনেক সময় জাকাত আদায়ে কৃপণতা করি। আর বিশেষত, নারীদের রুপা ও স্বর্ণালংকারের জাকাতের কথা আমরা ভুলেই যাই। অথচ, জাকাত আদায় না করলে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। বরং এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা করো আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮০)
অলংকারের বিষয়ে নারীরা মনে করেন, এর জাকাত আদায় পুরুষের ওপর ফরজ, আর পুরুষ মনে করেন, স্বর্ণ-রুপা যেহেতু নারীর, তাই এটি তারই দায়িত্ব– এভাবে একজন আরেকজনের ওপর দায় চাপাচাপি করতে করতে জাকাতই দেওয়া হয় না। অথবা আমরা মনে করি, ব্যবহৃত অলংকারের জাকাত নেই। কিন্তু এটি ঠিক না। ব্যবহৃত অলংকারেরও জাকাত দিতে হয়।
আর নারীর অলংকারের জাকাত আদায় করা তার ওপরই ফরজ। কারণ, জাকাত সম্পদের মালিকের ওপরই ফরজ হয়। অলংকারের মালিক যেহেতু নারী, তাই তাকেই তার জাকাত আদায় করতে হবে। তবে স্বামী যদি স্ত্রীর অনুরোধে বা অনুমতিক্রমে খুশি মনে তার পক্ষ থেকে জাকাত আদায় করে দেয়, তাহলে তা আদায় হয়ে যাবে এবং স্বামী সওয়াবের ভাগী হবেন। বরং সামর্থ্যবান স্বামীর জন্য অর্থের সঙ্গে জড়িত ফরজগুলো আদায়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সহযোগিতা করাই অধিক উপযুক্ত। (আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৮ ও সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৬০)
কখন নারীর অলংকারে জাকাত ফরজ হবে?
নারীর মালিকানাধীন স্বর্ণের অলংকার যদি সাড়ে সাত ভরি অথবা রুপার অলংকার যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি পরিমাণ হয় এবং তার কাছে এগুলো এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত করে, তাহলে সেগুলোর জাকাত দিতে হবে। অথবা স্বর্ণ ও রুপা মিলিয়ে যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার দামের সমপরিমাণ হয় এবং উপরোক্ত সময় অতিবাহিত হয়, তাহলেও সেগুলোর জাকাত দিতে হবে। আর জাকাত দিতে হয় ফরজ হওয়া মোট সম্পদের আড়াই ভাগ।
লেখিকা: আলেমা



