Uncategorized

বইয়ের মানোন্নয়নই বইমেলাকে সুন্দর করবে : পিয়াস মজিদ

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

পিয়াস মজিদ: মেলার ঠিক আগে আগে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে আমার ‘নির্বাচিত কবিতা’। সহসাই বেঙ্গলবুকস থেকে প্রকাশিত হবে আলমগীর মোহাম্মদের অনুবাদে আমার কবিতার ইংরেজি সংকলন ‘New normal and other poems’। এগুলো তো সংকলন, একেবারে নতুন বই বলতে বইমেলায় কবি প্রকাশনী থেকে টানাগদ্যকবিতার বই ‘তারাঝরা অনাথ আকাশে’ আর গ্রন্থিক থেকে আটটি দীর্ঘকবিতার সংকলন ‘০১ পেগ বুকোস্কি এবং আরও ০৭টি’ প্রকাশ পাওয়ার কথা। জ্ঞানকোষ থেকে পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে ২০১৩ সালে প্রকাশিত আমার তৃতীয় কবিতাবই ‘গোধূলিগুচ্ছ’।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন? বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি এই বইয়ের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?

উত্তর: বইগুলো পড়ে পাঠকই ভালো বিচার করতে পারবে। তবে আমি শুধু বলতে পারি কবিতা সংকলনগুলোতে আমার কুড়ি বছরের কবিতাচর্চার নমুনা গুচ্ছিত হয়েছে। পাঠক এবার আমার ভালোমন্দ, শক্তিদুর্বলতা শনাক্ত করতে পারবে। আর নতুন বইগুলোতে নিজের এতদিনকার কবিতারুচিকে আমি একটু নতুন করে ঝালিয়ে নিতে চেয়েছি। ‘এই সময়ের কবিতা দুর্বোধ্য’ এই অভিযোগ খারিজ করে আমার নতুন বইগুলো হয়তো বলতে চাইবে ‘অতি দুর্বোধ্য সময়কে সংবেদী ভাষা ও প্রকরণে ধরতে চেয়েছি আমরা।’

বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদসমূহ
প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল, এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে? 

উত্তর: বইমেলার তো এখন তারিখ নির্ধারণ হয়েছে৷ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করোনার সময়েই মেলা সঠিক সময়ে করা যায়নি। এবারও হয়তো জাতীয় নির্বাচন ও রমজানের কারণে সময়সূচি নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে অমর একুশে বইমেলা নিয়ে আমাদের যে আবেগ ও আগ্রহ তা যে কোনো প্রতিবন্ধক দূর করবে বলে বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?

উত্তর: রমজানে বইমেলা যতটুকু জানি নব্বই দশকেও কয়েকবার পড়েছে। আগামী কয়েক বছরও তো মেলায় রমজান পড়বে। এক্ষেত্রে তাই করার তেমন কিছু নেই বোধ করি৷ এবারের মেলায় প্রভাব কেমন পড়বে, সে বিষয়ে আমিও ধারণা করতে পারছি না তেমন।

প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা দেখেছি, অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?

উত্তর: বৈশ্বিক ও দৈশিক সার্বিক পরিস্থিতি থেকে বইমেলা তো বিযুক্ত কোনও বিষয় না৷ তাই চারপাশের ইতিবাচক-নেতিবাচক সবকিছুর প্রভাবই মেলায় পড়া স্বাভাবিক।

প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?

উত্তর: বইমেলার পরিসর তো দিন দিন বাড়ছে কিন্তু বইমেলার মূল প্রাণ স্থানিক অবয়ব না বরং বইয়ের মান নিশ্চিতকরণ। আমি মনে করি বইয়ের ক্রমাগত মানোন্নয়নই বইমেলাকে আরও সুন্দর করবে৷ যেনতেনভাবে মেলা ধরার জন্য যা খুশি বই করার প্রবণতা বন্ধ হোক—একজন পাঠক হিসেবে খুব করে তা চাই৷

প্রশ্ন: মেলায় এবং সারা বছর যত বই প্রকাশিত হয় তার ডিজিটাল ডেটাবেইজ কি বাংলা একডেমি বা কোনো কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করতে পারে?

উত্তর: বাংলা একাডেমি তো মেলায় প্রতিদিন প্রকাশিত বইয়ের তথ্য সংরক্ষণ করে গণমাধ্যমে প্রেরণ করে। এছাড়া জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস সারা বছর প্রকাশিত বইয়ের তথ্য সংরক্ষণ করে বলে জানি। সব প্রকাশক ও লেখকের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত যেন প্রতিটি নতুন বইয়ের তথ্য উদ্দিষ্ট পাঠকক্রেতার কাছে পৌঁছুতে পারে।

প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?

উত্তর: যেসব পাঠক-লেখক মেলায় আসছেন তাদের মধ্যে তো মুখোমুখি যোগাযোগ হচ্ছে। যে লেখক মেলায় আসতে পারছেন না বয়সের কারণে, প্রবাসে বা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসের কারণে তার সঙ্গে পাঠকের যোগাযোগ হচ্ছে তো কেবল বইয়ের মাধ্যমে। আবার ধরেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, হুমায়ূন আহমেদ, শহীদ কাদরী বা শহীদুল জহির তো এখন প্রত্যক্ষভাবে মেলায় আসছেন না বা আসবেনও না কখনও, কিন্তু মেলা থেকে যে পাঠকই তাঁদের বই সংগ্রহ করছেন সে পাঠকের সঙ্গেই কিন্তু তাঁদের সেতুবন্ধ তৈরি হচ্ছে। সুতরাং বইটাই পাঠক-লেখক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ্য এবং চিরকালীন সত্য।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button