রংপুরে ক্যাবল অপারেটর কার্যালয়ে হামলা, যুবদলের ২ নেতাকে বহিষ্কার

রংপুর নগরীতে ক্যাবল অপারেটর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, কর্মকর্তাদের মারধর করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার দিবগত গভীর রাতে যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে।
অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন– রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুর রহমান মনু এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিব।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত দুই যুবদল নেতার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ ক্যাবল অপারেটর কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভাইরাল হওয়া সিসি টিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় ক্যাবল ওয়ান নামে ক্যাবল অপারেটর ডিশের লাইন কেটে দেওয়ায় ওই এলাকায় সব টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। ওই ফিডারের লাইন চালাতো স্থানীয় এক যুবক। ওই ফিডারের লাইন যুবদল নেতা গালিবকে দেওয়ার জন্য ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকদিন ধরে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তারা রাজি না হওয়ায় রবিবার দুপুর ২টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাব ভবনের উল্টো দিকে যুবদল নেতা মনু ও গালিবের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন যুবক ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে এসে তাণ্ডব চালায়।
যুবদল নেতা মনু রবিবার রাতের মধ্যে গালিবের নামে ফিডার না দিলে ক্যাবল ওয়ানের জিএম কাফির বাসায় গিয়ে তাকেসহ পুরো পরিবারকে গুলি করার হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় এক কর্মকর্তাকে মারধর ও ল্যাপটপসহ মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয় থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করে ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ। ফলে রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায় ডিশের মাধ্যমে টেলিভিশন প্রদর্শন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সব বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ যায়। দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হলে ভোর থেকে আবারও ডিশ লাইন সচল করলে সম্প্রচার শুরু হয়।
অন্যদিকে, এ সংক্রান্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রংপুরসহ সারা দেশে সামালোচনা সৃষ্টি হয়। সিসি ফুটেজে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন যুবক ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা সেখানে কর্মরত ম্যানেজার পরাগের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের জিএম কাফিকে বলে, রাতের মধ্যে নগরীর কামাল কাছনা এলাকার ডিশ লাইনের ফিডার গালিবের নামে দিয়ে দিতে। না হলে বাসায় বেড রুমে ঢুকে তাকেসহ পুরো পরিবারকে গুলি করে হত্যা করার বারবার হুমকি দিতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতেও দেখা যায়।
এ ঘটনার পর ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তিন দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। দাবিগুলো হচ্ছে– ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, প্রতিষ্ঠানের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাবল ওয়ানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কোনও নিরাপত্তা নেই এভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না।’
এ ব্যাপারে যুবদল নেতা মনুর সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জেলা যুবদলের কোনও নেতাই ফোন রিসিভ করেননি। পরে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি সুরাহা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ওসি শাহাজাহান আলী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার জন্য থানায় রাত ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। তার পরেও সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’



