Uncategorized

রোহিঙ্গাদের ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান

বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসান চরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারগুলোকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেওয়ার জন্য জাপান সরকার ও ইউনিসেফ সোমবার (২ মার্চ) একটি নতুন চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী জাপান সরকারের দেওয়া ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দিয়ে ৩৬ হাজারেরও অধিক শিশুসহ ৫৬ হাজার ৫০০- এর বেশি সংখ্যক শরণার্থীকে জরুরি সেবা দেওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষায় জরুরি সেবা; পানি, স্যানিটেশন (পয়ঃনিশকাশন) ও হাইজিন (স্বাস্থ্যবিধি)-(ওয়াশ); পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই চুক্তি সই করেন।

এই সহায়তা ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অংশীদারত্বকে তুলে ধরে। পাশাপাশি এটি বৈশ্বিকভাবে ইউনিসেফের অন্যতম বৃহত্তম সরকারি দাতা হিসেবে জাপানের ভূমিকা এবং মানবিক নিরাপত্তা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক-উন্নয়ন-শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

নবম বছর শুরু হতে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এখনও বিশ্বের বৃহত্তম ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটগুলোর একটি। অতিরিক্ত জনঘনত্বপূর্ণ পরিবেশ, রোগের প্রাদুর্ভাব, অপুষ্টি এবং শিক্ষার সীমিত সুযোগ শিশুদের গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলছে। শিশুরা যতদিন না নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, ততদিন শিবিরগুলোকে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে রাখতে চায় জপান সরকার ও ইউনিসেফ। স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, শুধু শিশুদের বেঁচে থাকা ও বিকাশের জন্যই নয়, বরং রোহিঙ্গা সংস্কৃতি ও পরিচয় সংরক্ষণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি আশা প্রকাশ করেন, জাপান সরকারের এই সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উভয়ের জন্য বসবাসের পরিবেশের উন্নয়ন করবে

রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, “ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের নতুন চুক্তির ঘোষণা দিতে পেরে আমি সন্তোষ বোধ করছি, বিশেষ করে বৈশ্বিক তহবিল কমার এই সময়ে। এই সহায়তা দিয়ে জরুরি সেবা যেমন- শিক্ষা, ওয়াশ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এটা ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘ দিনের অংশীদারত্ব এবং মানবিক নিরাপত্তার প্রতি আমাদের বলিষ্ঠ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। আমরা বিশ্বাস করি, এই বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে তাদের অভিঘাত সহনশীলতাকে বৃদ্ধি ও মর্যাদাকে বলিষ্ঠ রাখবে এবং এই প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টায় জাপান অবিচল অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।”

জাপান সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যেন তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের মর্যাদা, সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউনিসেফ ভাসান চরে মিয়ানমারের কারিকুলাম (পাঠক্রম) আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা তৈরির প্রশিক্ষণ আয়োজনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিটি দিন রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য নতুন নতুন ঝুঁকি নিয়ে আসে। এর মধ্যে রোগ-ব্যাধি ও অপুষ্টি থেকে শুরু করে শিক্ষাগ্রহণ থেকে বাদ পড়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে। এই শিশুরা তাদের শৈশব হারিয়ে ফেলে।” তিনি বলেন, “জাপান সরকারের সহায়তা শিশুদের সুস্থ ও শিক্ষার সাথে যুক্ত রাখতে সহায়তা করবে, দক্ষতা উন্নয়নের বাস্তবমুখী পথ তৈরি করবে এবং পরিবারগুলোকে তাদের ছোট শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহে সহযোগিতা করবে। সম্পদ ও তহবিল কমে আসার এই সময়ে এবং যখন একটি পুরো সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, তখন এই অংশীদারত্ব শিশুদের বেঁচে থাকা, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”

এই অংশীদারত্বের আওতায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা জোরদার করা হবে— যা কলেরা, ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আওতায় পরিবারগুলোকে সাবান ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ সরবরাহ করা হবে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জেন্ডারসমতা নিশ্চিতে সহায়তা করবে। এটা জাপান ও ইউনিসেফ উভয়ের অভিন্ন অগ্রাধিকারে রয়েছে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button