প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের

প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পাঁচটি তেল স্থাপনায় তেল আবিবের হামলার পরই ইরান থেকে এ হুমকি এলো। তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার জেরে কালো ধোঁয়ায় ইরানের বেশ কয়েকটি শহর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এমনকি, সেখানে বৃষ্টির সঙ্গে তেলও পড়ছে। চলমান এ সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
রবিবার (৮ মার্চ) হুমকি দিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র বলেন, “তোমরা যদি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারের বেশি সহ্য করতে পারো তাহলে এ খেলা চালিয়ে যাও।”
তেলের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইসরায়েল ইরানের তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে। রবিবারের হামলার পর তেহরানের আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
হামলার পর ইরানের তেল বিতরণ কোম্পানি জানায়, ইসরায়েলের হামলায় তাদের চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন। শহরজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার আস্তরণ নেমে আসে এবং বাতাসে পুড়ে যাওয়া তেলের গন্ধ ভাসতে থাকে। তেহরানের কাছের শহর কারাজে হওয়া বিস্ফোরণের শব্দ পুরো এলাকাজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় এবং অঞ্চলটি ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, যদি জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চলতে থাকে তাহলে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বেসামরিক লোক এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করছে। মুখপাত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে হামলা বন্ধ করতে চাপ দিতে বলছে। নইলে এ অঞ্চলে একই ধরনের কর্ম কার্যকর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, ইরানের তেল স্থাপনাগুলোর ওপর যে হামলাগুলো হয়েছে সেগুলো ইসরায়েল করেছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে নিশানা করবে না। মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস বলেন, “তেলের এবং গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে, মাস নয়।”
ইরান বিশ্বের মোট তেলের প্রায় চার শতাংশ উৎপাদন করে এবং তাদের প্রধান ক্রেতা চীন।



