Uncategorized

তেল নিয়ে চলছে লংকাকাণ্ড, আসলে তেলের মজুত এখন কত 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রেশনিং করে তেল সরবরাহ করায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। অনেকে তেল না পেলে গণ-পরিবহনে চড়ে অফিস আদালত শুরু করেছেন। অনেকে আবার অতিরিক্ত তেল কিনে সংরক্ষণ করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার পেছনের মুল কারণ হিসেবে সবাই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে সামনে নিয়ে আসছেন। সবার ধারণা, এই  কারণে আগামীতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই দাবি করছেন বিপিসির কর্মকর্তারা। বর্তমানে মজুত থাকা কোন জ্বালানিতে কতদিন চলবে তা নিয়েও অনেকের বিভ্রান্তি রয়েছে। 

বিপিসির মজুতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৮ মার্চ পর্যন্ত হিসেবে জ্বালানি তেলের মজুত ১৩ থেকে ৭১ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। এদিকে এক সপ্তাহ আগেও এই মজুত ছিল ২১ দিনের মতো। বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। আগামী মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নিশ্চিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে জ্বালানিসহ একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। আজ রাতে আরও একটি জাহাজ আসবে বলে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে। 

জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে আপাতত কোন সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিপিসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, চলতি মাসে যে ১৪টি কার্গো আসার কথা তার বেশিরভাগই চলে এসেছে। আর কয়েকটা পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে। দুটি কার্গো পরের মাস অর্থাং মে মাসে পাঠাবে বলে সরবারহকারীরা জানিয়েছেন। এরপরও সংকট এড়াতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আনার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। 

হরমুজ প্রণালীর সংকটের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, চীনা জাহাজ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকায় সেখানেও কোনও সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী মাস পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারত, ব্রুনাইসহ আরও কএয়কটি দেশ থেকে এই ডিজেল আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। 

বিপিসির সর্বশেষ তথ্যমতে, ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ১৩ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। অকটেনের মজুত রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ২৫ দিন সরবরাহ দেওয়া যাবে। 

পেট্রোলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ১৭ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ৪৫ দিন সরবরাহ চালানো যাবে। 

এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ৪২ দিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। কেরোসিনের মজুত রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ৭১ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে। 

অন্যদিকে মেরিন ফুয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪ মেট্রিক টন, যা দিয়ে প্রায় ১৯ দিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব বলে বিপিসির তথ্য বলছে। 

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন ডিপো ও সংরক্ষণাগারে থাকা মজুত এবং দৈনিক গড় বিক্রির হিসাব অনুযায়ী এসব জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সরবরাহ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button