Uncategorized

বিটিআরসিতে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি: হাইকোর্টের রুল

অবৈধভাবে নিয়োগের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রুল জারি করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

পরে আইনজীবী জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, তথ্য এবং প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তর প্রেরিত অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে প্রকাশ পায়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলোতে চাকরিবিধি, নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই স্বেচ্ছাচারীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিশদ তথ্য উঠে আসে অডিট প্রতিবেদনে। বারবার ব্যাখ্যামূলক জবাব চাওয়ার পরেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে অডিট অধিদফতরকে সন্তোষজনক কোনও জবাব না দিয়ে বিষয়টিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়।

পরে নিয়োগ বিধি উপেক্ষা করে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শকে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন পদে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়ার তথ্যের উল্লেখ করে গত বছরের ১৬ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ জবাব দেওয়ার জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানায়।

কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান তা প্রতিপালন করেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও টেলিযোগাযোগ সেক্টরের অনিয়ম, দুর্নীতি অনুসন্ধানে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। সেই টাস্কফোর্স দাখিল করা শ্বেতপত্রে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে অবৈধভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। সেই শ্বেতপত্রের বরাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিগত ১৪ ডিসেম্বর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে পুনরায় অনুরোধ করে চিঠি পাঠায়। কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান সেটিও করেননি। উপরন্তু, বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া বর্তমানে উপ-পরিচালক পদে কর্মরতদের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত ৩ নভেম্বর ডিপিসি গঠন করা হয় এবং তাড়াহুড়া করে ঘনঘন ডিপিসির মিটিং ডেকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে বিটিআরসি।

এই অবস্থায় বিটিআরসিতে কর্মরত ৬ জন উপ-পরিচালক যথাক্রমে সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ, মো. হাসিবুল কবির অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়াদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং গুরুতর অনৈতিক লেনদেনে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পদোন্নতি না দেওয়ার দাবি করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইনি নোটিশ পাঠায়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button