রাসায়নিক গুদামে জ্বালানি তেল মজুত, পুরোনো ঢাকায় বাড়াচ্ছে বিস্ফোরণের ভয়

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকার খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ (ছদ্মনাম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর শুনে তিন দিন আগেই নিজের এবং বাবার মোটরসাইকেলের জন্য ৩৭ লিটার অকটেন মজুত করে রেখেছেন। বিষয়টি তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে অকপটেই স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আগেভাগেই আমি বাইক চালানোর বন্দোবস্ত করে রেখেছি। বাই এনি চান্স দেশে যদি তেলের সংকট দেখা যায়, আমি যেন এর ভুক্তভোগী না হই—সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখলাম।”
সাব্বির আহমেদের মতো আরও অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজবে আতঙ্কিত হয়ে আগাম তেল মজুত করছেন। কেউ কেউ পেট্রোল পাম্পে দিনে তিনবার পর্যন্ত গিয়ে মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিয়ে পরে তা বোতলে ভরে বাসায় মজুত রাখছেন। রাজধানীর পুরোনো ঢাকাতেও এমন ঘটনা দেখা গেছে।
জানা গেছে, পুরোনো ঢাকার যেসব বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে রাসায়নিক গুদাম এবং মোটরগাড়ির পার্টস ও নাটবল্টুর কারখানা রয়েছে, সেসব বাসায় কমবেশি পেট্রোল ও অকটেন মজুত রাখা হয়েছে।
ধোলাইখাল টং মার্কেটের ব্যবসায়ী সিদ্দিক মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা যেহেতু গাড়ির কাজকর্ম করি, তাই পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেল সব সময়ই দরকার হয়। সবাই বলাবলি করছে দেশে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই আমিও আগাম ১৫ লিটার পেট্রোল এনে রেখেছি। শুধু আমি না, এমন অনেক ব্যবসায়ীই করেছে।”
রাজধানীর প্রথম পেট্রোল পাম্প পুরোনো ঢাকার কিউ.জি. সামদানী অ্যান্ড কোংয়ে কর্মরত একজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকার নিয়ম ঘোষণার আগেই এখানকার অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বোতলে করে ৫ থেকে ১০ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন নিয়েছেন। নিয়ম করার পরও কেউ কেউ জোরজবরদস্তি করে তেল নিয়েছেন।
এদিকে বাসার নিচে পেট্রোল ও অকটেন মজুত করার খবর শুনে অনেকেই আতঙ্কিত। রাজধানীর বংশাল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসিম আলী বলেন, “এমনিতেই এই এলাকা রাসায়নিক গুদামে ভরপুর। তার ওপর এখন সবাই তেল মজুত করছে। আল্লাহ মাফ করুক—যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সবাই বড় বিপদে পড়বে। প্রশাসনের উচিত যারা তেল মজুত করেছে এবং অবৈধ রাসায়নিক গুদাম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, সরকার রেশনিং করায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন তেল ফুরিয়ে যাবে। তাই তারা বেশি করে তেল তুলে বাসায় মজুত করছেন।
তিনি বলেন, “এ ধরনের কিছু ঘটনার কথা আমরা শুনছি। তবে আমাদের দিক থেকে এটি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনিটর করতে পারে। অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা নম্বর দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পেট্রোল–অকটেনের মতো বিস্ফোরক পদার্থ কেউ যাতে ঘরে মজুত না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করাও প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, পণ্যের সংকট বা দাম বাড়ার আশঙ্কায় এর আগেও দেশে বিভিন্ন পণ্য কেনা ও মজুত করার হিড়িক দেখা গেছে। এই তালিকায় দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত লবণও রয়েছে।



