Uncategorized

৪ গোলে হেরে বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত বাটলারের

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হয়েছে হতাশাজনকভাবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪–০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এমন বড় ব্যবধানে হারের পর দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘আমি এখানে থাকছি না। আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববো। আমি কী করতে চাই, সেটি অনেকদিন ধরেই আমার মাথায় ঘুরছে।’

চার গোলে হারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘আমরা আসলে খারাপ ফুটবল খেলিনি। অনেক সময়ই ভালো ফুটবল খেলেছি। কিন্তু যখন আপনি এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলবেন, যারা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৬০–৭০ ধাপ এগিয়ে এবং শারীরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী, তখন পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে যায়। তারা ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য টিভি ক্যামেরা ও ভিডিও সরঞ্জাম নিয়ে আসে, যা আমাদের নেই। আমাদের সেই সুবিধা নেই। অনেক সময় মনে হয়, যেন একজন বক্সার এক হাত পেছনে বেঁধে রেখে লড়াই করতে নেমেছে।’

দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল হজম নিয়ে বাংলাদেশ কোচের কথা, ‘আমার মনে হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের রক্ষণভাগ বেশ দুর্বল ছিল। সত্যি বলতে, এক বা দুজন খেলোয়াড় যেন হাল ছেড়ে দিয়েছিল। বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে।’

দলের উন্নতির জন্য কী করা প্রয়োজন—সেটিও তুলে ধরেন বাটলার। তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে আমাদের বিনিয়োগ দরকার। ভিডিও ইকুইপমেন্ট ও ক্যামেরা দিয়ে শুরু করতে হবে। পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আপনি যদি বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাহলে বুঝতে হবে—সাফের তুলনায় এই পর্যায়ের ফুটবল অনেক বেশি কঠিন। সাফে আপনি আসলে সেভাবে পরীক্ষিত হন না।’

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের জায়গা পাওয়ার পেছনেও ভাগ্যের ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন বাটলার। তার ভাষায়, ‘নেপাল ভালো দল, ভারতও শক্তিশালী। কিন্তু সত্যি বলতে আমরা এখানে এসেছি অনেকটা ভাগ্যের জোরে। আমাদের নিজেদের সঙ্গে সৎ হতে হবে। আমরা বড় একটি ধাক্কা খেয়েছি এবং লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়েছি। এই পর্যায়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় আমরা ছিলাম না—এটাই কঠিন বাস্তবতা।’

সংবাদ সম্মেলনে তাকে আবারও প্রশ্ন করা হয়—তিনি যে চলে যাওয়ার কথা বলছেন, সেটির অর্থ কী? জবাবে বাটলার বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো, নিজের কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বের হবো এবং এরপর আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাববো। কারণ যেভাবে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে যদি সহায়তা বা সমর্থন না পাই, তাহলে দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি কোনও জাদুকর নই। আমরা এখানে যে পর্যন্ত এসেছি, সেটাও সত্যি বলতে অলৌকিক কিছু। আশা করি আপনারা আমার সঙ্গে একমত হবেন। আমরা ভাগ্যের জোরে জিতিনি, আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি।’

এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী—এমন প্রশ্নের উত্তরে বাটলার বলেন, ‘শেখার অনেক কিছু আছে। আপনি যদি মন খোলা রাখেন, তাহলে অনেক কিছুই শেখা যায়। আমি ইংলিশ ফুটবলের প্রায় প্রতিটি স্তরে কাজ করেছি, তাই আমি বাস্তববাদী। আমি রূপকথার জগতে বাস করি না। আপনি যখন অন্য দেশগুলোর মতো লজিস্টিক সাপোর্ট, নিয়মিত ম্যাচ ও ক্যাম্পের সুবিধা পাবেন না, তখন তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম বা ভারত এই পর্যায়ে এমনি এমনি আসেনি। তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে, ভালো খেলোয়াড়ও আছে।’

নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে বাটলারের সোজাসাপ্টা মন্তব্য, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি ৫৯ বছর বয়সী একজন পেশাদার মানুষ। ক্যারিয়ারে অনেক কাজ করেছি এবং আমার কাজের জবাবদিহি কারও কাছে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি এই মেয়েদের সর্বোচ্চটা দিয়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি কোনও ফালতু কাজ করি না। এখন সময় এসেছে আমার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার।’

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button