যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নয়, ইরানের তীব্র সমালোচনা করলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং উপসাগরীয় অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় ইরানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে চলমান যুদ্ধের জন্য সোমবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা থেকে বিরত ছিলেন। একে আসাদ শাসনামলের ইরান-ঘনিষ্ঠ নীতি থেকে সিরিয়ার একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
দামেস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সানার বরাতে জানা গেছে, সোমবার মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে শারা বলেন, আরব দেশগুলোর রাজধানীগুলোকে অস্থিতিশীল করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তার মূলে হস্তক্ষেপ করতে ইরান ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা এবং উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। সম্মেলনে উপসাগরীয় দেশসমূহ, তুরস্ক, জর্ডান এবং ইরাকের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
প্রেসিডেন্ট শারা ইরাক ও লেবাননের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগকে তিনি পূর্ণ সমর্থন জানান। শারা বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে শারা’র নেতৃত্বাধীন হায়াত তাহরির আল-শাম ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল হিজবুল্লাহ ও ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা।
এসএআইএস ফরেন পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো রান্ডা স্লিম মনে করেন, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের রোষানলে পড়তে চায় না। যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা না করার প্রধান কারণ হলো মার্কিন তহবিল প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো চার্লস লিস্টার বলেন, সিরিয়া নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি স্থিতিশীল এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ খুঁজছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে শারা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সৌদি আরব ও কাতার সিরিয়ায় কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলেপ্পো বিমানবন্দর উন্নয়নসহ ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছে সিরিয়া। এ ছাড়া কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও বড় অঙ্কের চুক্তি হয়েছে।
তবে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবে গত রবিবার এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানের নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এসে পড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠনে ২১৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় টিকে থাকতে হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন ও স্থিতিশীলতা সিরিয়ার জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি।



