স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ৪ দিনের রিমান্ডে স্বামী

জামালপুর শহরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী তাইফুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে জামালপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, ‘এই মামলার প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
নিহত গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার (৩৬) জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাইফুর রহমানের স্ত্রী। এই দম্পতির ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আছে।
গত ৬ মার্চ দিবাগত রাতে জামালপুরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে তাইফুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতেই ঘরের মধ্যে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে নিহত গৃহবধূর মরদেহ কিছুটা পুড়েও গিয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর আগে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে তাহমিনা আক্তারে সঙ্গে দড়িপাড়া এলাকার মৃত নজরুল মাস্টারের ছেলে তাইফুরের বিয়ে হয়। সম্প্রতি সময়ে তাইফুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকতো। ঘটনার দিন তাদের দুই সন্তান নানাবাড়িতে ছিল। বাড়িতে কেউ ছিল না। হঠাৎ গভীর রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। দুজন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বিছানার ওপর স্ত্রীর মরদেহ রেখে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন তাইফুর। ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। কিন্তু ঘরের দরজা আটকানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে তাইফুরকে গ্রেফতার এবং মরদেহটি উদ্ধার করেন।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্ত্রীকে প্রথম ছুরিকাঘাত ও পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে নিতেই ঘরে আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল যাই। কক্ষের দরজা আটকানো ছিল। একটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। অন্যটিতে অভিযুক্ত ছিলেন। পরে দরজা ভেঙে গ্রেফতার করা হয়।’



