ইরান যুদ্ধে ১৪০ মার্কিন সেনা আহত, ৮ জনের অবস্থা গুরুতর

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে গত ১০ দিনে অন্তত ১৪০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পেন্টাগন মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে টানা ১০ দিনের হামলায় এই সেনাসদস্যরা আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুতর আহত আট সেনাকে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে বিস্ফোরণজনিত কারণে সেনাদের মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। এ ছাড়া আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশন, হোটেল, বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে দেশটি। ইরানঘোষিত রকেট ও ড্রোন হামলায় কুয়েত ও সৌদি আরবে ইতোমধ্যে সাত মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
তবে ইরানের সামরিক শক্তিকে খুব একটা বড় করে দেখছেন না মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইরান লড়াই করছে এবং আমি তাকে সম্মান করি। কিন্তু তারা আমাদের ভাবনার চেয়ে বেশি শক্তিশালী, এমনটা আমি মনে করি না।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হবে। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান ট্রাম্পের ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনও মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে তা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। মাইন সরিয়ে নেওয়াকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি অবিলম্বে মাইন সরিয়ে না নেওয়া হয়, তবে ইরানকে এমন সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড


