Uncategorized

তেল আছে তেল নেই, ভোগান্তির শেষ নেই

দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনের বাইরে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালকরা। কিন্তু পাম্পগুলো থেকে বলা হচ্ছে, তেল নেই। কোথাও ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ, কোথাও ‘সীমিত পরিসরে’ বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে, সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে, দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে শুরু হয়েছে আতঙ্কের কেনাকাটা, যেখানে মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, যা সরকারের মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল) কিনতে ভিড় করছেন গাড়িচালকরা। কিন্তু অনেক জেলায় তেলের সংকট বলে জানা গেছে।

জ্বালানি তেল নেই রাঙামাটির কোনও ফিলিং স্টেশনে

রাঙামাটি শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল আর অকটেন বিক্রি হয়। দুই দিন ধরে অকটেন বিক্রি বন্ধ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে। মঙ্গলবার সকালে একটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হলেও দুপুরের পর বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অকটেনের সংকটের কারণে শহরের মোটরসাইকেল চালকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারেননি। অন্যদিকে ডিজেল বিক্রি বন্ধ থাকায় ছোট নৌযানের চালকরা ভাড়ায় নৌযান চালাতে পারছেন না। এর আগে সোমবারও পাম্পগুলো ঘুরে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

শহরের কল্যাণপুর, রাজবাড়ী, বনরূপা ও পুরোনো বাসস্টেশনে চারটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কল্যাণপুরে তান্যবি এন্টারপ্রাইজ নামের ফিলিং স্টেশনে গিয়ে ফাঁকা দেখা যায়। স্টেশনের ব্যবস্থাপক সুফল চাকমা বলেন, ‌‘সোমবার ৮ হাজার লিটার ডিজেলের চালান পাওয়া গেছে। সেসব আজ শেষ হয়ে গেছে। দুদিন ধরে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।’

রাজবাড়ী এলাকার এস এম পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে অকটেন ও ডিজেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে সেখানে। কাজ না থাকায় অলস বসেছিলেন কর্মচারীরা। ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন চাকমা বলেন, ‘ডিজেল সোমবারে শেষ হয়েছে। অকটেন দুই দিন ধরে নেই।’

বনরূপা ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অনেক বোতল হাতেও তেল সংগ্রহ করতে আসেন। ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়েছে। দুপুরের পর জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এ কারণে বিক্রি বন্ধ আছে।’

জ্বালানি তেল নেই রাঙামাটির কোনও ফিলিং স্টেশনে

ডিজেলের অভাবে রাঙামাটি থেকে বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলোর চলাচল সীমিত করতে হয়েছে। চাহিদা মতো ডিজেল না থাকায় নৌযান চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। তবে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বনরূপা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল কিনতে এসে চাহিদা মতো পাননি বোট চালক মো. আবু ছিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে ডিজেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। দরকার ১০-১৫ লিটার ডিজেল। দিচ্ছে ৫ লিটার। ডিজেলের অভাবে ভাড়ায় বোট চালাতে পারছি না।’

তবে জেলার বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানান রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে। তিনি বলেন, ‘আপাতত সব রুটেই লঞ্চ চলছে। তবে কত দিন স্বাভাবিক থাকবে বলা যাচ্ছে না।’

তবে শহরে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকট নেই, যার যতটুকু দরকার, ততটুকু রেশনিং পদ্ধতিতে নিতে পারবে। কোনও পাম্পের মালিক সংকটের বিষয়টি তাকে জানায়নি।’

জয়পুরহাটে জ্বালানি তেলের সংকট

জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে অনেক পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা ও সাধারণ মানুষরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলা সদর ও উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল শেষ হয়ে যায়। এতে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবার অনেক চালক তেল নিতে এসে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

মোটরসাইকেল চালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। তেল রিজার্ভে গেছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই অন্য দিনের মতো ২০০ টাকার অকটেন তুলতে গেলাম কিন্তু পাম্পে তেল নেই । নিশ্চিন্তা, বটতলী, জয়পুরহাট কোনো পাম্পে তেল নেই।

খুলনায় পাম্পে দীর্ঘ লাইন

খুলনায় জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ডিপোগুলোতে মজুত স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদার ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্পগুলোও তাই নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে। খুচরা জটিলতার কারণে মোটরসাইকেল চালকরা ২ লিটারের স্থলে ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। ট্যাঙ্কিতে তেল থাকার পরও কেউ কেউ তেলের জন্য পাম্পে আসছেন। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। নিষিদ্ধ থাকলেও বোতলে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় উপজেলার এজেন্টরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যা বোরো আবাদের সেচ কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

খুলনায় বাইকারদের জ্বালানি তেল নিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে

খুলনার নতুন রাস্তার এ্যালেনা পেট্রোলিয়াম পাম্প এলাকায় বাইকারদের জ্বালানি তেল নিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ফেরিঘাট মোড়ে কেসিসির পাম্প ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন পাম্পেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

মোটরসাইকেল চালক দীপন দাশ বলেন, ‌‘প্রয়োজনের চেয়ে মজুত পরিকল্পনার কারণে তেলের জন্য লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। আমরা স্বাভাবিক নিয়মে চললে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।’

কেসিসি পেট্রল পাম্পের সুপারভাইজার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ডিপো থেকে দৈনিকের চাহিদা থেকে কম সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করায় সংকটে পড়তে হচ্ছে। কেসিসির জন্য ৬০০ লিটার আলাদা রেখে অবশিষ্ট তেল ঘোষণা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে।’

ডুমুরিয়া বাজারের এ লতিফ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইলিয়াছ শেখ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে।’

গল্লামারী মেট্রো ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদুর রহমান রনি বলেন, ‘ডিজেলের কোনও সংকট নেই। বেশি দামে বিক্রির কোনও সুযোগও নেই।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজেলের কোনও সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কোনও কৃষকের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খুলনার জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোথাও তেলের দাম বেশি নেওয়া হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বরিশালে অকটেন সংকট, পেট্রলও ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা

বরিশালে পেট্রল পাম্পগুলোতে অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রলের সংকট থাকায় দুই লিটারের বেশি মিলছে না। তবে ডিজেল সরবরহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছের সংশ্লিষ্টরা। নগরীর অধিকাংশ পাম্পে অকটেন না পেয়ে অনেক চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ​নগরীর নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর, রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।

নগরীর মধ্যে দু’একটি পাম্পের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ‘অকটেন নেই’ ‘পেট্রল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। পেট্রোল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে তেলের সংকট হতে পারে সেই চিন্তা থেকে অনেকে বেশি করে সংগ্রহ করছেন। 

বরিশালে পেট্রল পাম্পগুলোতে অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে

নথুল্লাবাদের সুরভী ফিলিং স্টেশনে জ্বালানী নিতে আসা প্রাইভেটকারচালক সবুজ বলেন, ‘অকটেন না পেয়ে খালি হাতে তাকে ফিরতে হয়েছে।’

​নতুন বাজার এলাকার ইসরাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুর রব সিকদার জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত আমদানি না থাকায় এই সাময়িক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

ময়মনসিংহে ফিলিং স্টেশন বন্ধ

জেলায় জ্বালানির তেলের মজুত না থাকায় বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মোটরবাইক চালকসহ অন্যান্য যানবাহন চালকরা।

মোটরসাইকেল চালক আবদুল্লাহ বলেন, ‌‘আমরা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। সারাক্ষণ মোটরবাইক চালিয়ে কাজ করতে হয়। অথচ জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’

প্রাইভেটকারচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার গাড়ি গ্যাস কনভার্সন না করা থাকায় জ্বালানি তেল অকটেন কিংবা পেট্রল দিয়েই চলতে হয়। কিন্তু কয়েকটি পাম্প ঘুরেও কোথাও পেলাম না।’

শহরের স্টার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ডিপোগুলো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দুদিন ধরে তেলের জন্য ডিপোতে গাড়ির লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।’

জেলায় জ্বালানির তেলের মজুত না থাকায় বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে

নগরের গঙ্গা দাস গুহ রোডের অটোমোবাইল ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী শরীফ জানান, আমাদের পাম্পের তেলের মজুত শেষ হয়ে গেছে। তেলের জন্য চালকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন।’

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও তেলের সংকট আছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।’

রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

রাজশাহীর বিভিন্ন তেলের পাম্পে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পবা উপজেলার নওহাটা বাজার এলাকার রুচিতা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে কিছু গ্রাহককে বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা যায়। 

মোটরবাইকে তেল নিতে আসা মারুফ হোসেন বলেন, ‌‘দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতক্ষণ অপেক্ষার পর তেল পাবো কিনা নিশ্চিত নই। চাহিদার তুলনায় কম তেল দেওয়া হচ্ছে।’

রাজশাহীতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি

নগরীর গুল গফুর পেট্রলিয়ামের ম্যানেজার ফেরদৌস পনির জানান, তাদের পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে। সংকট নেই। অন্যান্য কিছু পাম্পে তেল না থাকায় অনেক গ্রাহক এখানে ভিড় করছেন। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি মনিমুল হক জানিয়েছেন, তেলের ঘাটতি নেই। তবে আতঙ্কিত হয়ে গ্রাহকরা অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করার চেষ্টা করছেন।

জ্বালানি তেল নিয়ে সিলেটজুড়ে অস্থিরতা

জ্বালানি তেল নিয়ে সিলেটজুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চালকদের। তেল চাহিদা মতো না দেওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করা হয়।

নগরীর আম্বরখানার গাড়িচালক আকাশ মিয়া জানান, পাম্পগুলোতে গিয়ে তারা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। তেলের জন্য তাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ কারণে তাদের ভোগান্তির সীমা থাকছে না।

মঙ্গলবার বিকালে ফিলিং স্টেশনগুলোর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ডিপো থেকে তেল নেওয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে যাচ্ছেন জ্বালানি তেলেচালিত যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়বে মোটরসাইকেল আরোহীদের।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিভাগীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) রেশনিং এবং দৈনিক ক্রয়সীমা নির্ধারণের নীতিমালাকে ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে পরিমাণ তেল আছে, সেটি বিক্রির পর ডিপো থেকে আর তেল উত্তোলন করা হবে না। মঙ্গলবার বিকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াশাদ আজিম হক আদনান জানান, সিলেটে জ্বালানি তেলের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর বিপণন সুষম না হওয়া এবং কোম্পানিগুলোর ওপর সরবরাহ সীমা বেঁধে দেওয়ার তেল নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পাম্পগুলোকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না করলে তারা ডিপো থেকে কোনও তেল উত্তোলন করবেন না। তেল নিয়ে সিলেট অঞ্চলের একাধিক পেট্রল পাম্পে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যা আমাদের নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে।  

রংপুরে পেট্রল ও অকটেন সংকট

রংপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রয় করা হলেও বেশিরভাগ পাম্পে পেট্রল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে তেল না পেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল আর গাড়ি নিয়ে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। 

রংপুরে পেট্রল ও অকটেন সংকট

রংপুর ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমান আলী বলেন, ‌‘ডিপো থেকে আগের মতো তেল সরবরাহ করলে কোনও সংকট হতো না। আমাদের চাহিদা ছয় হাজার লিটার, সরবরাহ করা হচ্ছে তিন হাজার লিটার। ফলে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সমাধানের উপায় হলো ডিপোগুলো থেকে আগের মতো সরবরাহ করা আর রেশনিং করার নামে মানুষের মাঝে আতঙ্ক দূর করা।’




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button