ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, আমাদের ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর। বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা বলে স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়।
বুধবার (১১ মার্চ) পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ঢাকায় নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং টেকসই সমাধান অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ‘ঢাকায় নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নগর অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং মানুষের চলাচল সবকিছু মিলিয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, নাগরিকদের কাছে পুলিশের প্রথম পরিচয় প্রায়ই আসে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট যখন রাস্তায় দাঁড়ান, তিনি শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন না; তিনি রাষ্ট্রের আইন এবং শৃঙ্খলার প্রতিনিধিত্ব করেন। তার আচরণ, পেশাদারত্ব এবং নৈতিকতা সরাসরি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের ভাইস-রেক্টর এস এম আক্তারুজ্জামান। কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন– পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অ্যাডিশনাল আইজি (লজিস্টিকস) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন। তারা ঢাকার নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ারের পক্ষে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুফিয়ান আহমেদ। প্রবন্ধে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, যানজটের কারণ, আইন প্রয়োগের বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও নীতিনির্ধারণভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা মহানগরে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বাস্তবমুখী নীতিগত সুপারিশ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এ লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা ও প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাস রুট ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, রিকশা ও অন্যান্য নন-মোটরাইজড পরিবহনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, পথচারী নিরাপত্তা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিবহন পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা বিষয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন সংস্কার, আইন প্রয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
কর্মশালার সুপারিশগুলো ভবিষ্যতে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নগর পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।



