Uncategorized

শরীরের আড়ালে

চারুকেশী

কোথাও দেখা হয় না আর…শুধু স্বপ্নে এসে বলে, “তোমার গ্রাম কোথায়? ফেরার বেলা রিকশা পাবো তো?” আনন্দময় ঐ স্বপ্নের ভেতর যদি পুরোটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারতাম! “কিছু শুনতে পাও?”, এই প্রশ্নের উত্তরে যদি প্রাণ বেরিয়ে যেত! তবু মেঘগাঢ় কণ্ঠে তাকে বলি, “এভাবেই থাকো, তোমার বাপ কাকারা কি কোনোদিন জলদস্যু ছিলো?”

হাতে হাতে অনেক পথের শেষ, হাতে হাতে কত নদী খুন—

তার বিদায়-লগ্নে শাল পাতায় মোড়ানো চারুকেশী ঘুম ভেঙে গেলে বুঝতে পারি, সে আমার হীরামন পাখি, আমার বনের সবুজ, হরেক রকম নীল কেড়ে নিলো…

নীল ব্যারেলিনা

দেখি না কি হয়, মানুষ থাকুক নিজের মতো, কেবল আয়ু ফুরিয়ে এলে যখন ঢেলে দেবে সর্পতেল শরীরে, সতীপ্রথা ছিঁড়ে যাবে। কত বয়স হলে বলো, কাকা, বলতে পারবে: “আমার মন নাই, পুরোটাই শরীর।” সবাই তো উড়তে চায়, পারে কজনে? কত দুঃখে হারিয়েছিলাম তোমায়, কত দুঃখে আবার পেয়েছি ফিরে, তবু স্বেচ্ছা বঞ্চনা এই— অনাবিষ্কৃত রেখে দেবো সহজ পাহাড়। যখন শরীর হারিয়ে যাবে শরীরের আড়ালে, আকাশের তুলো টেনে বানানো পেজমার্কারগুলো কোথায় মিলিয়ে যাবে?

হিম

লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িটা কতদূর যাবে? গৌড়ীপুর বাড়ি নাকি তার? জানি না যে শুয়ে আছে হিম শীতল শক্ত বিছানায়, যদি তার থেকে থাকে ছেলেবেলা, বড়বেলা, কেমন ছিল? প্রেম-ট্রেম ছিল নাকি কিছু! এই পৃথিবীর হাওয়া বাতাস গায়ে মেখে আজ সে চলে যাচ্ছে আরেক পৃথিবীতে। হয়ত ঐ নতুন পৃথিবীর হিমায়িত কোনো নির্জন পাঠাগারে বসে, বইয়ের মলাট থেকে তুষার কণা ঝেড়ে ফেলে প্রিয়তম কবিতাটা পড়ছে সে এখন।

দোয়াতগন্ধ

একদিন প্রকাণ্ড এক ইরেজার এসে দাঁড়াবে এইখানে, যা কিছু আছে, ভালো ও ভুল, শুদ্ধ কিংবা আধান্যাংটো যত কথা, মেছোবাঘ আর ফুলপরীর গপ্পো, ঘষে ঘষে তুলে নেবে সব। যত বেদনা ও বিষাদ, প্রেম, আনন্দ কিছুই থাকবে না আর ঐ পাতার শরীরে, গাছেদের গায়ে। তবু যদি কেউ ভুল করে ঢুকে পড়ে খাদে, মরা ইঁদুরে ঠাসা অন্ধকার গলিতে, একটু দোয়াতগন্ধ কি তার নাকে লাগবে না?




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button