ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়ছেন অ্যান্ড্রু?

যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের অভিযোগে বিদ্ধ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে এবার রাজকীয় উত্তরাধিকার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে ব্রিটিশ সরকার। বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার ও পরে মুক্তি পাওয়ার পর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লুক পোলার্ড বিবিসি-কে জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রু যাতে কখনোই রাজা হতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন আনা সঠিক কাজ হবে। বর্তমানে রাজার ভাই অ্যান্ড্রু ব্রিটিশ সিংহাসনের অষ্টম উত্তরাধিকারী। যদিও গত অক্টোবর থেকেই তার ‘প্রিন্স’সহ সব রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
লুক পোলার্ড নিশ্চিত করেছেন যে, সাবেক এই প্রিন্সকে সিংহাসন থেকে এক ধাপ দূরে রাখার বিষয়টি ঠেকাতে সরকার বাকিংহাম প্যালেসের সঙ্গে অবশ্যই কাজ করছে। তবে এই আইনটি পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পর পাস করার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন। ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি জেমস মারে জানিয়েছেন, বিষয়টি বেশ জটিল এবং চলমান পুলিশি তদন্তের ফলাফলের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
শনিবারও অ্যান্ড্রুর দীর্ঘদিনের আবাসস্থল রয়েল লজ-এ পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ৩০ কক্ষবিশিষ্ট এই বাড়িতে শুক্রবার ২০টির বেশি পুলিশের গাড়ি দেখা যায়। টেমস ভ্যালি পুলিশ সোমবার পর্যন্ত এই তল্লাশি চালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিবের উপদেষ্টা ড্যানি শ’র মতে, এই তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং তা শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
ঐতিহাসিক ডেভিড অলুসোগা বিবিসি-কে বলেন, সরকার ও রাজপ্রাসাদ এখন এই সংকট ও রাজতন্ত্রের বাকি অংশের মধ্যে একটি সুরক্ষাপ্রাচীর তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও এর আগে ডাউনিং স্ট্রিট উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনের পরিকল্পনা অস্বীকার করেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা অবস্থান বদলাতে বাধ্য হচ্ছে।
অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিতে হলে পার্লামেন্টে একটি বিশেষ আইন পাস করতে হবে। এমপি ও পিয়ার্সদের অনুমোদনের পর রাজা চার্লসের সম্মতি পেলেই তা কার্যকর হবে। তবে শুধু ব্রিটেন নয়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডসহ কমনওয়েলথের অন্য ১৪টি রাষ্ট্রকেও এই পরিবর্তনে সমর্থন দিতে হবে।
এর আগে ১৯৩৬ সালে এডওয়ার্ড অষ্টম যখন সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন, তখন আইনের মাধ্যমে তাকে ও তার বংশধরদের উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এই আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল বড় কন্যার বদলে ছোট ছেলের রাজা হওয়ার নিয়ম (পুরুষ অগ্রাধিকার) রদ করার জন্য।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি এবং এসএনপি নেতা স্টিফেন ফ্লিন এই সম্ভাব্য আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত এবং সময়মতো পার্লামেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে বাকিংহাম প্যালেস এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।



