সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করলেও ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শুল্কের হুমকির মুখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো বজায় থাকবে। শুধু শুল্ক আদায়ের আইনি প্রক্রিয়াটি ভিন্ন উপায়ে সম্পন্ন করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তিটি বহাল আছে। সব চুক্তিই কার্যকর থাকবে। আমরা শুধু এটি অন্যভাবে (ভিন্ন আইনি কর্তৃত্বে) করব।
১৯৭৭ সালের একটি আইনের অধীনে জরুরি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের যে ক্ষমতা ট্রাম্প ব্যবহার করেছিলেন, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করেন। আগামী মার্চে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা এবং এপ্রিলেই তা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, মোদি দারুণ এক ভদ্রলোক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী আলোচকদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তারা আমাদের ঠকাচ্ছিল। তাই আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ন্যায্য চুক্তি করেছি। এখন ভারত শুল্ক দিচ্ছে, আমাদের শুল্ক দিতে হচ্ছে না।
ভারতের বিরোধী দল ও সমালোচকরা এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘লজ্জাজনক নতিস্বীকার’ হিসেবে দেখছেন। লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী একে একটি ‘ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সমালোচকদের আশঙ্কা, ভর্তুকিযুক্ত মার্কিন কৃষিপণ্য ভারতীয় বাজারে ঢুকে পড়লে দেশটির প্রায় ৭০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে তুলা চাষি ও ক্ষুদ্র কৃষকরা চরম সংকটে পড়ার আশঙ্কায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এ পর্যন্ত আদায় করা অর্থ ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়নি এবং এটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে আরও পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



