অজ্ঞাত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভ্যানযাত্রীকে পথরোধ করে ছিনতাইয়ের অভিযোগের জেরে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় কোনও নামীয় আসামি উল্লেখ না করে অনির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রামবাসীকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
নিহত লেবু মিয়া ওরফে ভন্ডলের মা ফুলমতি বেগম বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম। তিনি জানান, নিহত ভন্ডলের মা লিখিত অভিযোগ দিলে তা আমলে নিয়ে হত্যা মামলা রুজু করা হয়। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফনের পর নিহতের মা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মামলায় নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা উল্লেখ না থাকলেও অনির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার খোর্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর গ্রামে দুইজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— লেবু মিয়া (২৪), পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাঁতারপাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া শেখের ছেলে এবং মঈনুল ইসলাম (৫০), একই উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মোস্তাফাপুর গ্রামের মৃত দানোজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী বাসে এক পুরুষ ও এক নারী ঠুঠিয়াপুকুর বাজারে নামেন। সেখান থেকে সাদুল্লাপুর সড়ক ধরে ইদিলপুর ইউনিয়নের মাদারহাট খেয়াঘাট (ভাঙা সেতু) এলাকায় পৌঁছালে দুই মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভোররাতে স্থানীয়রা দারোগার বাজার এলাকায় সড়কে বাঁশ ফেলে পথরোধ করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পালানোর সময় দুজন পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে গণপিটুনিতে নিহত হন লেবু মিয়া ওরফে ভন্ডল ও মঈনুল ইসলাম। আরেকজন পালিয়ে যায়।
এদিকে মামলা দায়েরের পর এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে গ্রামবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



