আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে: মেহজাবীন

কথা ছিলো বিয়ের পর মেহজাবীনের চওড়া কপাল আরও চওড়া হবে। মানে ভাগ্যবতীর ভাগ্য আরও সুপ্রসন্ন হবে। কাজের বিচারে হয়েছেও তাই। সিনেমা করে দেশ-বিদেশে ভালোই করতালি নিচ্ছেন, যেটি এতকাল আটকে ছিলো টিভি আর ইউটিউব দর্শকদের মধ্যে।
এমন ভূমিকায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রায় একযুগ ধরে শাসন করা টিভি নায়িকা তথা দেশের প্রধান টিভি অভিনেত্রীর ভাগ্য খুলতে বিয়ে বা বরের সূত্র টানা হলো কেন? জবাব এভাবে হতে পারে। মেহজাবীন প্রেমিক-স্বামী আদনান আল রাজীবও দেশের প্রধানতম ও প্রভাবশালী বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও প্রযোজকদের একজন। ফলে সেরা অভিনেত্রী যখন গাঁটছড়া বাঁধেন সেরা একজন নির্মাতা-প্রযোজকের সঙ্গে, তবে তো ‘এক যোগ এক, সমান দুই’ ফলাফল আসবেই। যদিও অনেক অতিআগ্রহী ভক্ত-দর্শক দুই ছাপিয়ে ‘তিন’ সংখ্যার প্রতীক্ষাও করছেন বলে জানা গেছে! কারণ, মেহজাবীন আজকাল কাজের সংখ্যা নামিয়ে এনেছেন ঘরনিতে অথবা তলানিতে।
প্রসঙ্গ ছিলো বিয়ে পরবর্তী ভাগ্য। হুম, সিনেমার বিচারে বিয়ের পর মেহজাবীনের বিদেশ ভাগ্য ও পুরস্কার ভাগ্য ভালোই বদলেছে। তবে তাকে নিয়ে সমালোচনা আর গসিপিং-এর পরিমাণও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। যেমনটা দেখা যায়নি সিঙ্গেল জীবনে দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে।
ধরুন দুদিন আগেই প্রতারণার মামলায় আসামি হলেন মেহজাবীন। হাজির হতে হলো আদালতে। খবরটি নিয়ে দেশজুড়ে বেঁধে যায় বিস্ময়ের লঙ্কাকাণ্ড। সেটি থেকে নিজেকে সামলে তুলতে না তুলতে সম্প্রতি মেহজাবীন খবরে আসেন ‘মাদক’ কাণ্ডে! খবরে প্রকাশ মেহজাবীন, তার স্বামী আদনান ও সহকর্মী নির্মাতা শঙ্খদাশ গুপ্ত বিদেশ থেকে একসঙ্গে ফেরার পথে ঢাকা বন্দরে আটক হন অনুমোদনহীন মাদক বহনের অভিযোগে।
খবরটি প্রকাশের পর অনেকেই অবাক হয়েছেন, বিব্রত হয়েছেন আবার অবিশ্বাসও করেছেন। কারণ, ঘটনাটি তিনজন বা ততোধিক মানুষের সঙ্গে হলেও খবরে প্রকাশ পেয়েছে মেহজাবীনের ছবি ও নাম। অনেকেই বলছেন, এমন খবর ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ বলছেন, ‘বিয়ের পর থেকে মেয়েটার কপালটা খারাপের দিকে!’
অভিনেত্রী নিজেই সেটি অনুভব করছেন, সম্ভবত। তাই তো রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে খুব কষ্ট নিয়ে জানালেন কিছু প্রতিক্রিয়া। স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ্য করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে।’
এরপর ঘটনার আরও ভেতরে চলে যান মেহজাবীন। প্রতারণার মামলার নজির টেনে অভিনেত্রী নিজেই বলেন, ‘কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
সেই মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যখন ফের কাজে ও সংসারে মন বসালেন, তখনই সামনে এলো ‘মাদক কাণ্ড’! যদিও মাদকের বিষয়টি মুখে তোলেননি মেহজাবীন। বললেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
শুধু নিজের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি মেহু। টানলেন নারী সমাজকেও। বললেন, ‘নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’
অভিযোগটি সত্যি এজন্য, ‘মদ বা মাদক কাণ্ড’র ঘটনায় আরও দু’জন পুরুষের নাম থাকলেও খবরটি ঢালাও প্রকাশ হয়েছে মেহজাবীনকে ঘিরে!
এই স্টেটমেন্টে মেহজাবীন তুলে ধরেন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিপফেক কনটেন্ট নিয়েও। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও-এর কারণেও আমার মতো অনেক আর্টিস্টদের প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে- যা একেবারেই কাম্য নয়।’
শেষে সবাইকে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়ে চৌধুরী কন্যা বলেন, ‘আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই, আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক। আশা করি আপনারা সবাই পাশে থাকবেন।’
বলা দরকার, নাটক পেরিয়ে মেহজাবীন চৌধুরী গত দু’বছর মন বসিয়েছেন সিনেমায়। সেই সূত্রে ‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা দুটি নিয়ে বৈশ্বিক উৎসবে ভালো প্রশংসা পেয়েছেন।
সম্প্রতি শিহাব শাহীন নির্মিত ‘ক্যাকটাস’ সিরিজে নারী প্রধান চরিত্রে কাজ করছেন মেহজাবীন। স্পাই ইউনিভার্স সিরিজের গল্প এটি। ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি ‘পুলসিরাত’ নামে একটি রোমান্টিক থ্রিলার সিনেমায়ও অভিনয় করার কথা রয়েছে মেহজাবীনের। সিনেমাটি নির্মাণ করবেন ভিকি জাহেদ।



