ফরিদুর রেজা সাগরের ‘একজীবনে টেলিভিশন’

শিরোনামটি দেখে পাঠকের মনে নানান প্রশ্নের উদ্রেক ঘটতে পারে। শুরুতেই খোলাসা করা ভালো, এটি একটি বইয়ের পাঠ-পর্যালোচনা। ফরিদুর রেজা সাগরের ‘একজীবনে টেলিভিশন’ গ্রন্থটি অনেকটা স্মৃতিকথার আদলে লেখা ইতিহাসের পাঠ বলা যেতে পারে। বইটি অমর একুশে বইমেলা ২০১১-তে ‘অন্যপ্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
পারিবারিকভাবে সাংস্কৃতিক আবহে বড়ো হওয়া ফরিদুর রেজা সাগর মূলত শিশুসাহিত্যিক হিসেবেই সুধী মহলে খ্যাতি পেয়েছেন। পঞ্চাশটিরও বেশি গ্রন্থ তিনি শিশুদের জন্য রচনা করেছেন। অভিযান, রহস্য, ভ্রমণ, স্মৃতিকথা, ভূত, মুক্তিযুদ্ধ ও বিজ্ঞানবিষয়ক কল্পকাহিনি ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে শিশুদের জন্য নাটকও। ২০০৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পেয়েছেন শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য। এরপর টেলিভিশন শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে গণমাধ্যম শাখায় পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’। তাঁর মা রাবেয়া খাতুন ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক।
তবে এসব কিছু ছাপিয়ে ফরিদুর রেজা সাগরের ‘একজীবনে টেলিভিশন’ গ্রন্থটিতে ব্যক্তিগত স্মৃতিকথার আড়ালে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উঠে এসেছে। পাকিস্তান আমলে ঢাকা কেন্দ্রিক যে শিল্প-সাহিত্যের আসর গড়ে ওঠে, থিয়েটারের বিকাশ ঘটতে থাকে—বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় নিমগ্ন সেই শ্রেণির কাছে তৎকালে চলচ্চিত্র বা রেকর্ডেড কিছু প্রচার ও প্রকাশের তাড়না তৈরি হতে থাকে। খোদ পাকিস্তানে তখনও টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়নি। উপমহাদেশের প্রথম টেলিভিশন স্টেশন হিসেবে তৎকালীন ঢাকার ডিআইটি ভবন থেকে শুরু হয়েছিল পাকিস্তান টেলিভিশনের (পরবর্তীতেকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন)। প্রথম আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারের শুরুর তারিখটি ছিল ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। এর আগে পাকিস্তান সরকারের কাছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটি বাণিজ্যিক টেলিভিশন স্থাপনের জন্য আবেদন করেন জামিল চৌধুরী। আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিল চৌধুরীকে বলা হয়েছিল, যে শহরে আপনি বাণিজ্যিক টেলিভিশন তৈরির প্রস্তাব করছেন সে শহরে রয়েছে মাত্র দুটি রেস্তোরাঁ—একটি মতিঝিলে, আরেকটি গুলিস্তানে। আর গাড়ি চলাচলের জন্য পুরো শহরজুড়ে সিগন্যাল বাতি রয়েছে মাত্র তিনটি। তারপরও জামিল চৌধুরীর ঐকান্তিক চেষ্টায় নানান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এনইসি (NEC) গ্রুপের তত্ত্বাবধানে লাহোরের আগেই ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী থেকে টেলিভিশন সম্প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেসময় এর নাম ছিল পাকিস্তান টেলিভিশন। ঢাকায় চালু হওয়ার পর তখন সেই টেলিভিশনের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব নেন জামিল চৌধুরী এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফী। টেলিভিশনের যাত্রা শুরুর পর সকলের মধ্যে টেলিভিশনের মাধ্যমেই বাংলা সংস্কৃতির প্রসারকল্পে নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। কারণ প্রথম দিকে এই টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রত্যেকেই ছিলেন বাংলা সংস্কৃতি চর্চায় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। টেলিভিশনের অফিসিয়াল কাজগুলো বাংলায় সম্পন্ন করার ব্যাপারে নানান রকম পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামটিও উল্লেখ করেছেন গ্রন্থটির লেখক ফরিদুর রেজা সাগর। মূলত এই গ্রন্থটিতে ফরিদুর রেজা সাগর ব্যক্তিগত স্মৃতিকথার আদলে ঢাকায় দূরদর্শনের (টেলিভিশনের) যাত্রা শুরুর ইতিহাসকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু চমৎকারভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাছাড়া টেলিভিশন শিল্পের ক্রমবিকাশমান ধারাকেও তুলে ধরা হয়েছে যথার্থভাবে।
প্রথম সংস্করণের শুরুতে কিছু কথায় ছোটোবেলায় তাঁর প্রথম টিভি দেখার স্মৃতিচারণ করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। পাড়ার সবচেয়ে বনেদি বাড়িতে জীবনে প্রথম টেলিভিশন দেখা হয় তাঁর। টেলিভিশনের প্রতি আগ্রহ বুঝতে পেরে পরবর্তীকালে লেখক-সম্মানীর টাকা বাঁচিয়ে বাড়িতে টেলিভিশন আনার ব্যবস্থা করেন মা রাবেয়া খাতুন। তখন টেলিভিশন ক্রয় ও ব্যবহারের জন্য পারমিশনের প্রয়োজন ছিল। এক খালুর সহযোগিতায় সেটিরও ব্যবস্থা হয়ে যায়। টেলিভিশন নিয়ে এই গ্রন্থটি রচনা সম্পর্কে ফরিদুর রেজা সাগর লিখেছেন—“টেলিভিশন নিয়ে লিখতে হবে এমন কখনো ভাবিনি। ভাবনা থাকলে অবশ্যই লিখে রাখতাম অনেক স্মৃতি। সাপ্তাহিক ২০০০-এর গোলাম মোর্তোজার উৎসাহে ঈদসংখ্যায় টেলিভিশন জীবনের সঙ্গী, দুই পর্বের একটি লেখা লিখেছিলাম। পরে সময় প্রকাশনীর ফরিদ আহমেদ বইটি প্রকাশ করেন।” এই বইটি অনেকের মাঝে সাড়া ফেললে পরবর্তীকালে অন্যধারা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অরুণ চৌধুরীর প্রেরণায় ধারাবাহিকভাবে স্মৃতিকথা লিখতে থাকেন তিনি। সেগুলো একত্রে সংকলন করেই এই গ্রন্থের কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সে প্রসঙ্গে ফরিদুর রেজা সাগর বলেছেন— “এটি আমাদের দেশের টেলিভিশনের ইতিহাস নয়। একজন টেলিভিশন কর্মীর স্মৃতিকথা মাত্র। আমার চারপাশের প্রিয় মানুষের উৎসাহের কারণে মূলত এর গ্রন্থপ্রকাশ সম্ভবপর হয়েছে।”
বইটির শুরুতেই প্রথম নিবন্ধে সাংস্কৃতিক বিষয়ে এদেশের প্রথম পত্রিকা ‘সিনেমা’ প্রসঙ্গে আলাপ করেছেন লেখক। বগুড়া থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগরের বাবা ফজলুল হক। সেই ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমা থেকে বাংলাদেশের সিনেমা যাত্রায় ‘মাটির ময়না’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘নিরন্তর’-এর মতো সিনেমার উল্লেখ করেছেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টিভির যাত্রা শুরুর ঘটনাবলি উল্লেখ করেছেন পর্যায়ক্রমে। টেলিভিশনের উদ্বোধনী দিনের প্রথম সংগীতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন শিল্পী ফেরদৌসী রহমান, লেখকের স্মৃতিতে তাঁর কথাও উঠে এসেছে। সেসময় স্টেশন প্রযোজক হিসেবে ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। দ্বিতীয় নিবন্ধের নাম ‘হাতের মুঠোয় টেলিভিশন’। এখানে পাকিস্তান টিভি জন্মলাভের পর কীভাবে ও কারা কারা মিলে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও নির্মাণ করেছিলেন সেসবের স্মৃতিচারণ করেছেন লেখক। লেখকের বর্ণনায় উঠে এসেছে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রযোজনা ও পরিকল্পনায় কীভাবে ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ টেলিভিশনের পর্দায় এসেছে। সেসময় ‘প্রতিধ্বনি’ নামে জনপ্রিয় ধাঁধার অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো টেলিভিশনে, যেটি উপস্থাপনা করতেন অধ্যাপক আব্দুল মতিন। তৃতীয় নিবন্ধে টেলিভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় সাধারণ জ্ঞানের অনুষ্ঠান ‘জ্ঞান ও জিজ্ঞাসা’ বা এরকম আরও কিছু অনুষ্ঠান নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন লেখক। দেশবরেণ্য শিল্পীদের নামও এসেছে এখানে। শুধু শিল্পী নয়, টেলিভিশন অনুষ্ঠান রেকর্ড ও প্রচারের ক্ষেত্রে এর পেছনের কারিগর যেমন ক্যামেরাম্যান বা এরকম আর্টিস্টদের অবদান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি উল্লেখ করছেন লেখক এই নিবন্ধেই। বাংলাদেশের প্রথম দিককার বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলা হয়েছে চতুর্থ নিবন্ধে। টেলিভিশন শিল্পের উন্নতিকল্পে শুরুর দিকে এর সঙ্গে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র মতো মানুষেরাও কাজ করেছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। কিংবা ড. কুদরত-ই-খুদা’র মতো গুণী ব্যক্তিত্ব একক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য স্টুডিয়োতে এসে বসে থেকেছেন। পঞ্চম নিবন্ধে শারজাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চ্যানেল আই পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড প্রসঙ্গে কথা বলেছেন লেখক। এছাড়াও প্রথমদিকে টিভিতে প্রচারিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গ এসেছে আলোচনায়, রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ নাটকের দৃশ্যধারণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’র মঞ্চরূপের দৃশ্যধারণ কিংবা শহীদুল্লাহ কায়সারের কালজয়ী উপন্যাস ‘সংশপ্তক’ নিয়ে নাটক নির্মাণই বলে দেয় যে সেসময় টেলিভিশন শিল্পরুচির জায়গায় কতটা সমৃদ্ধ হতে শুরু করেছিল। অন্যদিকে আজকের দিনে রুচিহীন সস্তা ধাঁচের ভাঁড়ামোপূর্ণ অন্তঃসারশূন্য পরিবেশনা যেন জানান দেয় আমাদের দেশে টেলিভিশন শিল্প যথার্থ রুচিবোধ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও তা এখন তার লেশমাত্র নেই।
ষষ্ঠ নিবন্ধে লেখক ডিআইটি ভবনে প্রথম চালু হওয়া টেলিভিশন সম্প্রচার নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। এছাড়াও ‘প্রতিভার খোঁজে টেলিভিশন’ শিরোনামে ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠান নিয়ে বলেছেন। এছাড়াও ছোটোদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভীষণ জনপ্রিয়তা ছিল সেসময়। এর অন্যতম কারণ মুস্তাফা মনোয়ারের সংযুক্তি। টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ বা এরকম শিশুতোষ অনুষ্ঠান শিশুদের মনন তৈরিতে সেসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। নাজমা চৌধুরীর উপস্থাপনায় ছোটোদের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ‘ক ও খ’ ১৯৭৮ সালে জাপনে পুরস্কার পায়। সপ্তম নিবন্ধে বর্তমান সময়ের সাথে তুলনা করে সেসময়ের কিছু শিক্ষামূলক ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান সম্পর্কে লিখেছেন। অষ্টম নিবন্ধের প্রথমদিকে টেলিভিশনের সাথে যুক্ত থাকা মানুষেরা যেমন জামিল চৌধুরীর মতো লোকেরা কত আন্তরিকতার সঙ্গে টেলিভিশন গড়ে তুলেছেন সেটা লিখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। মুক্তিযুদ্ধের সময় টেলিভিশনের ভূমিকা এবং পাক টিভির বাংলাদেশ টিভিতে রূপান্তরের স্মৃতিচারণ করেছেন নবম নিবন্ধে। সবকিছু ছাপিয়ে টেলিভিশন যেন সেসময় দেশপ্রেম প্রকাশের এক মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল টেলিভিশন কর্মীদের কাছে। যদিও একাত্তর সালে টেলিভিশনের তেমন বিস্তারলাভ করেনি তবুও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সমান্তরালে টেলিভিশন কর্মীরা নানাভাবে মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছিলেন নিজস্ব উদ্যোগে। স্বাধীনতার পর ২১ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্পোরেশন ঢাকা নামে বাংলায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়। সিগনেচার টিউন হিসেবে তখন টেলিভিশনে ব্যবহার করা হতো দিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ গানটি। এছাড়াও সংবাদ প্রচারের আগে সময় সংকেত প্রদর্শনের জন্য যে ঘড়িটি ব্যবহার করা হতো সেটির ডায়ালও বাংলায় ছিল। এ যেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শিল্পের মধ্য দিয়ে বাংলা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের অমোঘ উন্মেষ।
এরপর দশম নিবন্ধে ডিআইটি স্টুডিয়োতে রেকর্ড করা বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এই স্টুডিয়োতে ভূপেন হাজারিকার মতো শিল্পীও গান গেয়েছিলেন একসময়। টেলিভিশনের প্রয়োজনে হানিফ সংকেত নিয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার খ্যাত শাহরুখ খানের সাক্ষাৎকার।
একবার আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘আমার উপস্থাপক জীবন’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুস্তাফা মনোয়ার বলেছিলেন—“শুধু দেখার অনুষ্ঠান নয়, এমন অনুষ্ঠানও করা উচিত যা লোকে দেখবে না। টিভি বন্ধ করে দেবে।”
অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম । ‘মুক্তধারা’ নামে প্রচারিত সেই অনুষ্ঠানটি পরবর্তীকালে বেশ জনপ্রিয়তা পায়।
ফরিদুর রেজা সাগর রচিত এই ‘একজীবনে টেলিভিশন’ গ্রন্থে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে এরকম সর্বমোট ৪১টি নিবন্ধ ধারাবাহিকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। যার প্রতিটি বাঁকে বিভিন্ন রকম স্মৃতিকথার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে টেলিভিশন শিল্পের যাত্রা শুরু ও এর গড়ে ওঠাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিপুণভাবে। ফরিদুর রেজা সাগর যেন তাঁর স্মৃতিসম্ভারে উন্মোচন করেছেন ইতিহাসের পাঠ। বাংলাদেশ বর্তমানে টেলিভিশন শিল্পের সাথে সরাসরি যুক্ত কর্তাব্যক্তি বা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের এ গ্রন্থ পাঠ সমৃদ্ধ করবে বলে আমি মনে করি।



