বালুভর্তি ট্রাক্টর আটকে চাঁদা দাবি বিএনপি নেতার, থানায় অভিযোগ ব্যবসায়ীর

পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বালুভর্তি ট্রাক্টর আটকে চাঁদা দাবির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত মো. মুসলিম পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মুসলিম ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বালু ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান। পরে চাঁদার দাবিতে আটকানো ট্রাক্টর উদ্ধার করে পুলিশ।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শালটিয়াপাড়া গ্রামে চাওয়াই নদীর বালু মহাল থেকে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করেন আনিসুর। তিনি প্রতি ট্রাক্টর বালু বাবদ ১০০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদে কর দেন। শনিবার মুসলিম ও তার লোকজন শালটিয়াপাড়া গ্রামে আনিসুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর বালুভর্তি ট্রাক্টর আটকে রেখে প্রতিটির জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে গাড়ি ছাড়া হবে না এবং নদী থেকে বালু তুলতে দেবেন না বলে জানান মুসলিম। এ নিয়ে ট্রাক্টরচালকদের সঙ্গে মুসলিমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারমুখী আচরণ করেন এবং আনিসুরের ছেলেকে মারধর করেন মুসলিমের লোকজন। বিষয়টি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরানকে জানালে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের কথা শুনে মীমাংসার কথা বললে ট্রাক্টরগুলো ছেড়ে দেন।
রবিবার সকাল ৭টার দিকে শালটিয়াপাড়া গ্রামে আবারও মুসলিম ও তার লোকজন আনিসুরের দুটি ট্রাক্টর আটক করেন। খবর পেয়ে আনিসুর ঘটনাস্থলে গেলে মুসলিম জানান কোনও আপস-মীমাংসা হবে না, প্রতি গাড়িতে ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে গাড়ি ছাড়া হবে না। এমনকি নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেবেন না। বিষয়টি পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে আনিসুরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান। দুপুর ১২টার দিকে আনিসুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে বালুভর্তি গাড়িগুলো উদ্ধার করে আনিসুরকে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. মুসলিম বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাস্তা ইজারা নিয়েছি। রাস্তার টোল না দেওয়ায় গাড়ি আটকালে আনিসুরদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন তারা। কিন্তু চাঁদাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়।’
তবে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরান জানিয়েছেন, কাউকে রাস্তা ইজারা দেওয়া হয়নি। রাস্তা ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুভর্তি ট্রাক্টরগুলো উদ্ধার করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



