Uncategorized

বিধি অনুযায়ী সময় শেষ, মেয়র বললেন ‘আমার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্তমান নির্বাচিত ষষ্ঠ পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে নির্বাচন আয়োজন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও সে সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য জানায়নি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, আদালতের রায়ে তার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে এর আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চান তিনি। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন রবিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতের রায়ে চসিক মেয়র হিসেবে আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে এর আগেই আমি নির্বাচন চাইছি। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাবো।’

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মতো রেজাউল করিম চৌধুরীকেও অপসারণ করা হয়েছিল। অপসারিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, ওই পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ।

২০২১ সালের ওই নির্বাচনের পর কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। এরপর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর তাকে মেয়র ঘোষণা করেন আদালত। আদালতের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলে তিনি ওই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ নেন এবং দায়িত্ব নেন ৫ নভেম্বর।

দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর কার্যক্রম স্থানীয় সরকার আইন (সিটি করপোরেশন) ২০০৯-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই আইনে সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ ও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে পৃথক পৃথক ধারা রয়েছে। আইনের ৬ ধারায় সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর হবে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। এরপর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ২৯ মার্চ। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে নির্বাচন প্রায় এক বছর পিছিয়ে যায়। আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদ শেষ হয় ওই বছরের ৫ আগস্ট। এরপর ছয় মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজনকে।

২০২৯ সালে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘প্রশাসক দিতে পারবে না। কারণ, প্রশাসককে বদলি করে আমি এসেছি। চট্টগ্রামে প্রশাসক ছিলেন। প্রশাসককে বদলি করে আমাকে মেয়র দেওয়া হয়েছে। কাজেই পরে আর প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই যে একটা ইলেকশন হোক।’




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button