Uncategorized

‌‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে আমাকে হারানো হয়েছে, দাবি বিএনপি প্রার্থীর

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে হারানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি। প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে একটি মহল দলীয় প্রার্থীকে হারিয়ে তা ধামাচাপা দিতে দলীয় কোন্দলের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা ছাত্রদল সভাপতি আমিমুল ইহসানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ নির্বাচনের ফলাফলের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে প্রশাসনের মদতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে বিএনপি প্রার্থীকে হারানো হয়েছে। সদরের ভেলাকোপার দুটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। আবার আরেকটি কেন্দ্রে দেড় হাজার ভোট নষ্ট দেখানো হয়েছে। ফলের একাধিক শিট তৈরি করে সরবরাহ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের লোকজন হুমকি দিয়ে এসেছিল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তাকে হারানো হয়েছে।

সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাকে হারানো হয়েছে। এই ফলাফলে আমার আসনের মানুষের মধ্যে কোনও আনন্দ নেই। ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আমি উচ্চ আদালতে গিয়েছি। ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মুখোশ উন্মোচনের ভয়ে আমাদের দলের বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দলের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা দ্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, কুড়িগ্রাম বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের মধ্যে কোনও কোন্দল নেই। একটি মহল নির্বাচনে আমাদের বিজয় ছিনতাই করেছে। তাদের অপকর্ম ঢাকতে আমাদের দলের বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দলের অপপ্রচার চালাচ্ছে। দুই একজন অসাধু সাংবাদিককে দিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মানহীন প্রতিবেদন ছাপছে। আমরা এসবের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘কুড়িগ্রামে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। আমাদের প্রার্থী হারেননি, তাকে হারানো হয়েছে। একটি মহল এখনও দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আমাদের দলের মধ্যে কেই গুপ্ত থেকে যদি ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে থাকে তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত এনসিপি প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button