Uncategorized

বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আলোচনার টেবিলে ফের ফিরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠক করবে তারা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি এ তথ্য জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ খবর এলো। খবর আল-জাজিরার।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বুসাইদি লেখেন, “আনন্দের সঙ্গে নিশ্চিত করছি যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তি চূড়ান্তের জন্য ইতিবাচক দিক রয়েছে।”

নতুন করে আলোচনায় বসার ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে যখন কি না মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে সামরিক শক্তি মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পোস্টের ঘণ্টাখানেক আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিতে একটি সম্পূর্ণ নজরদারি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে। এতে উত্তেজনা কমানো যাবে।

‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো এবং উত্তেজনার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ইরান কেন বিদেশ থেকে কেনার পরিবর্তে নিজ দেশের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে চাচ্ছে’ ফেস দ্য নেশন মডারেটর মার্গারেট ব্রেনানের এমন প্রশ্নের জবাবে আরাঘচি বলেন, “এটি ইরানিদের জন্য মর্যাদা ও গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজস্ব প্রযুক্তিতে, নিজেদের বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছি। এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় কারণ এর জন্য আমাদের বিশাল মূল্য দিতে হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশকের নিষেধাজ্ঞা, ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যা এবং জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে মূল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে যাচ্ছি না। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি পরিচালিত হওয়ায় এটি বন্ধ করার কোনও আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।”

চলতি মাসের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকাটে প্রথম দফা আলোচনার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসেছিলেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা। এবার তৃতীয় দফার আলোচনার ঘোষণা এলো।

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনলেও তেহরান তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। ইরান বলছে, তারা কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়। মূলত দেশটির অর্থনীতির ওপর চেপে বসা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পেছনেও এই অর্থনৈতিক সংকট বড় ভূমিকা রেখেছিল।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button