অবশ্যই বাবাকে সব জানানো উচিত

প্রশ্ন
আমার ছেলের বয়স ১২। সে ভিডিওগেম খেলা শুরু করে ৭ বছর বয়স থেকে। এখন সে যে খেলা খেলে সেই খেলায় অন্যদেশের খেলোয়াড় যুক্ত হয় অনলাইনে। তারা তার থেকে বয়সে বড়, আমি শুরুতে বিষয়টা বুঝতে পারিনি। এভাবে অন্যদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যে কথা বলতে বলতে খেলা যায় সেটা আমার জানা ছিল না। এখন বেশিরভাগ সময় যখন সে খেলে তখন আমাকে ওর আশেপাশে থাকতে দিতে চায় না। আমি জোর করেই থাকি। আমার মনে হচ্ছে, এই বয়সে বুঝে না বুঝে কোনও ভুল যদি করে ফেলে। কী ধরনের সতর্কতা নিতে পারি আমি?
উত্তর
অবস্থান পরিবর্তন: গেমিং সেটআপ বা কম্পিউটারটি এমন জায়গায় রাখুন (যেমন: ড্রয়িং রুম), যেখানে আপনি সরাসরি পাশে না বসেও সে কী করছে তার ওপর নজর রাখতে পারেন।
গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা: তাকে বোঝান যে গেমের সঙ্গীদের সাথে নিজের নাম, স্কুল, ফোন নম্বর, ঠিকানা বা ছবি শেয়ার করা কেন বিপজ্জনক। তাদের ‘বন্ধু’ না ভেবে ‘সহ-খেলোয়াড়’ হিসেবে দেখতে শেখান।
গেমের সেটিংস চেক করা: বেশিরভাগ গেমে ‘Parental Control’ বা ‘Chat Filter’ থাকে। আপনি চেক করে দেখুন কথা বলার অপশন বন্ধ রাখা যায় কি না বা ফিল্টার করা যায় কি না।
জোর না করে বন্ধুত্ব: আপনি যদি সারাক্ষণ পাশে বসে থাকেন, তবে সে বিষয়টিকে পাহারা দেওয়া মনে করবে এবং বিদ্রোহ করবে। বরং তার গেমের প্রতি আগ্রহ দেখান। মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করুন, ‘আজ কোন লেভেল পার করলে?’ এতে সে আপনার সাথে শেয়ার করার ভরসা পাবে।
সময়ের সীমাবদ্ধতা: একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। অনলাইনে দীর্ঘ সময় কাটালে আসক্তি তৈরি হয় এবং বাইরের জগতের প্রভাব বেশি পড়ে।
প্রশ্ন
আমার মা নেই। বাবা বিদেশে থাকেন আমার জন্মের একবছর পর থেকে। আমার বয়স ১৭। আমি নানীর বাসায় থাকি। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। আমার বাবাও আমার সব খরচ পাঠান। কিন্তু তারপরেও মামা-খালারা আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না। আমার মা নেই, আমি অনেককিছু নিয়ম কানুন শিখতে পারিনি ঠিক করে। কিন্তু যাদের কাছে বড় হচ্ছি তারাও তো আমাকে বকাবকি না করে শেখাতে পারতেন। মাঝে মাঝে মনে হয় বাসা ছেড়ে চলে যাই কোথাও। আমি কি বাবাকে সব বলবো?
উত্তর
বাবার সাথে কথা বলুন: অবশ্যই আপনার বাবাকে সব জানানো উচিত। তবে অভিযোগের সুরে না বলে আপনার মানসিক অবস্থার কথা বলুন। তাকে বলুন যে আপনি একা বোধ করছেন এবং আপনার মানসিক কষ্ট হচ্ছে। তিনি বিদেশে থাকলেও আপনার প্রধান অভিভাবক তিনিই।
নিজেকে দক্ষ করে তোলা: আপনার মামা-খালারা যা শেখাচ্ছেন না, তা আপনি নিজেই শেখার চেষ্টা করুন। রান্নাবান্না, গুছিয়ে চলা বা সামাজিক আচার-আচরণ এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমেই অনেক শেখা যায়। আপনি যত স্বাবলম্বী এবং মার্জিত হবেন, তাদের বকাঝকার সুযোগ তত কমবে।
ধৈর্য ও লক্ষ্য: আপনার বয়স এখন ১৭। সামনে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ারের বড় সুযোগ আছে। নিজেকে পড়াশোনায় ডুবিয়ে দিন। নিজের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়াই হবে এই অবহেলার যোগ্য জবাব।
পালিয়ে যাওয়া সমাধান নয়: বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া কোনও নিরাপদ পথ নয়। বরং বাবার সাথে আলোচনা করে দেখুন তিনি আপনার থাকার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা (যেমন কোনও ভালো হোস্টেল বা নির্ভরযোগ্য আত্মীয়ের বাসা) করতে পারেন কি না।



