শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ২৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান সুমন (৪১) নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ ৬৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এন্টি টেররিজম ইউনিটের ইনভেস্টিগেশন শাখার ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান খাঁন গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, নাম থাকা সত্ত্বেও বাকি ৬৩ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।”
আগামী ৮ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযোগপত্রের উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত (এ আরাফাত), সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক। এছাড়াও সরাসরি হামলায় জড়িত হিসেবে আব্দুর রহমান রাসেল, মো. রায়হান ওরফে রাহেল, লম্বু রানা ও সোহাগসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— নজরুল ইসলাম, রায়হান, তারিক হাসান কাজল, কাজী কবির, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ মকবুল চেয়ারম্যান, খন্দকার মোহাম্মদ সেলিম, ইফতেখারুল আলম হিরক, রাইসুল ইসলাম শাকিল, সাইফুল ইসলাম ওরফে রুম্মন, ফরিদুর রহমান খান ইরান, ইকরামুল কবির লাভলু, আসাদুজ্জামান দুলাল, জাবেদুর রহমান দুরান, রুম্মান বিন মাসুদ সাব্বির, মিন্টু চৌধুরী, মনোয়ার হোসেন সোহেল ওরফে লাদেন সোহেল, ফেরদৌস আলম শাহীন ওরফে কোট্টা শাহীন, রেজাউল করিম, আবুল হাসনাত দুলাল, নাবিদুর রহমান, কালী মনির ওরফে মনি সিং, আবু দায়েন মীর, তাজুল ইসলাম পলাশ ওরফে পিচ্চি পলাশ, মেহেদী হাসান মনির, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, জ্যোতি প্রকাশ বড়ুয়া, শাহজাহান, তানজিন আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, অলি-উল্লাহ অলি, শাহজাহান মজুমদার, এসএম অলি উল্লাহ ওলি, আবুল, ফোরকান হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সজিব, আবু সাদেক, সাব্বির আহমেদ লিটু, ফজলুল আহমেদ অপু, বাপ্পি, হাসিনুর রহমান, আসিফ হাসান, সিজার, সৈয়দ জিয়াউল আহসান, আবুল হোসেন, রুহুল আমিন, কাইয়ুম, আব্দুর রাজ্জাক, মাহে আলম, আব্দুল কুদ্দুস ওরফে নাডা কুদ্দুস, টুটুল, বি কে পাইক বাবু, এমএস কিবরিয়া মজুমদার, পাপ্পু, কালু বাবু, শাহ আলম, দেলোয়ার হোসেন সোহাগ ওরফে শ্যুটার সোহাগ, নাসির উদ্দিন সাগর, সাদ্দাম, সালাম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের উসকানিমূলক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরের পর শেরেবাংলা নগর এলাকায় আনন্দ মিছিলে অংশ নেন সুমন ও তাঁর ভাগ্নে আ. রহিম। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা সুমনকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় ও বাম হাতে কোপানোর পাশাপাশি রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ড্রেনে ফেলে দেয়।
আহত সুমনকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১১ আগস্ট তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং ১৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর সুমনের স্ত্রী মোসা. বিথী খাতুন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় শেখ হাসিনাসহ ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।



