Uncategorized

বড় রদবদল: আলোচনায় ‘মেরিটোক্রেসি’, দলীয় নয়

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিবের সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বদলের হাওয়া কোথায় গিয়ে থামবে—সেটা এখন আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্য প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, আরও ঘটার ইঙ্গিত রয়েছে। এদিকে, গত কয়েক দিনের পরিবর্তনের ঝাপটায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকে নিজে থেকেই দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ পদগুলোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আইনজীবী পদেও পরিবর্তন আসার কথা জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সরকার এসে এই পরিবর্তনগুলো আনবেন, এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে আসা বিএনপির নতুন সরকার আগের কোনও সরকারের মতো দলীয়করণ করবে না—এই আশা রাখতে চান তারা। তবে এ কথাও সঠিক যে নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ কর্মকর্তা প্রয়োজন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের আগে জনপ্রশাসনের দুটি শীর্ষ পদের দুজন কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে গেছেন। একজন হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ, অন্যজন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। সেটাই শুরু। এরপর একে একে সবগুলো জরুরি জায়গায় বিএনপি তার নিজের পরিকল্পনা মোতাবেক ব্যক্তি নিয়োগ শুরু করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরই সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের ১ জন ও অতিরিক্ত সচিব পদের ১৯ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদের ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের ২ জন ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। কয়েক দফায় কর্মকর্তাদের ওএসডি করার খবর পাওয়া যায়। আবার, সচিবসহ বেশ কিছু পদে চুক্তিতে নিয়োগও দেওয়া হয়। সেসব নিয়োগ নানা সময়ে বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছিল। নতুন সরকারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রবিবার প্রথম কর্মদিবসে জরুরি পরিবর্তন

এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর কয়েকটি শীর্ষ পদে রদবদল হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেনা সদর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ সংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। নতুন পিএসও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। তাকে লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে মীর মুশফিকুর রহমান ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর আরও দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুই সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলমকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে আর্টডকের জিওসি করা হয়েছে।

এছাড়া সেনা সদরের একটি পরিদফতরের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশে বদল, ধীরে?

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই পুলিশ বাহিনীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়—কে হচ্ছেন নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার। এরই মধ্যে আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া আলোচনায় আরও হাওয়া লাগে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশ প্রশাসনে কিছু রদবদল করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসনে শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে। ধীরে ধীরে কিছু রদবদল হবে।’’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতেই দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় দিনে হাত পড়েছে ট্রাইব্যুনালে

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের অধীনে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। এদিকে, বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। উল্লেখ্য, সাব্কে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বর্তমানে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, এরই মধ্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ‘মেধাতান্ত্রিক’ শাসনব্যবস্থা বা মেরিটোক্রেসি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের রদবদল সেভাবে সম্ভব হবে বলে মনে করেন নাকি দলীয়করণের শঙ্কা আছে—প্রশ্নে সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘মেধার দাবিতে এত বড় একটা আন্দোলন হয়ে গেলো, যার ফলশ্রুতিতে পেলাম অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারে কি মেধার প্রতিফলন ঘটেছে? না আমরা সেখানে মেধার প্রতিফলন দেখিনি। এ নিয়ে নানা কথা রয়েছে। নির্বাচিত সরকার সবে মাত্র গঠিত হলো। তারা যদিও ইশতেহারে মেধার কথা বলেছে। দেখি, তার প্রতিফলন ঘটে কিনা। আমি মনে করি, ‘‘নতুন সরকারকে সময় দেওয়া উচিত।’’




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button