বিমানবন্দর-সংক্রান্ত মানহানির বিরুদ্ধে মেহজাবীনের আইনি পদক্ষেপ

ভিত্তিহীন গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, মানহানিকর প্রচারণা ও হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আইনি পথ বেছে নিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। বিমানবন্দর-সংক্রান্ত এক অনাকাঙ্ক্ষিত খবর ছড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে তার এই পদক্ষেপ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনা নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সেই বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’
কিছু সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেহজাবীনের কাছে ১৪টি মদের বোতল পাওয়া গেছে। তখন তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী, পরিচালক-প্রযোজক আদনান আল রাজীব ও ‘প্রিয় মালতী’ ছবির পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। এ প্রসঙ্গে ফেসবুক পোস্টে নায়িকা পরিষ্কার দাবি করেছেন, ‘উল্লিখিত কোনও ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনও হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি। আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেরকম কোনও ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি। বিমানবন্দরের কোনও কর্মকর্তা আমাকে কোনও জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।’
এরপর মেহজাবীন প্রশ্ন রেখেছেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার, আমার লাগেজ থেকে কিছু অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনও ছবি, ভিডিও বা কোনো ধরনের প্রমাণ কি আছে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে কেউ একটিও প্রমাণ দিতে পারেনি যে, আমার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারোরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়।’
সবশেষে মেহজাবীন দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এই সকল অভিযোগ অমূলক এবং আমি আবারও বলছি, এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে যা প্রকাশিত হয়েছে সেই ব্যাপারে আমার কোনোই সংশ্লিষ্টতা নেই।’
মেহজাবীন কিছুদিন ধরে লক্ষ করছেন, তাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া আরেক পোস্টে এই বিষয় উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনারা অনেকেই জানেন, কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
গত বছর অর্থ আত্মসাৎ মামলায় মেহজাবীনকে কাঠগড়ায় তোলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকায় আদালত থেকে রেহাই পান তিনি। এবার বিমানবন্দরে মদের বোতলসহ ধরা পড়ার অপপ্রচার ছড়ালো। তার মনে হচ্ছে– যখনই নতুন কাজ হাতে আসে এবং সেই কাজে তিনি মন দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই তার মানহানির অপচেষ্টা চলে। রবিবারের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবারও আমার মানহানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
মেহজাবীন আরও দেখেছেন, ইদানীং প্রযুক্তির সহায়তায় নকল ছবি ও ভিডিও বানিয়ে বিনোদনদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত নারীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তার বার্তা, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণেও আমার মতো অনেক শিল্পীকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা একেবারেই কাম্য নয়। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’
মেহজাবীন সেই পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই, আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক। আশা করি আপনারা সবাই পাশে থাকবেন। ধন্যবাদ।’
মেহজাবীন এখন নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ক্যাকটাস’ নিয়ে ব্যস্ত। এতে প্রথমবার সংগীতশিল্পী-অভিনেতা প্রীতম হাসানের সঙ্গে অভিনয় করছেন তিনি। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি’র জন্য তৈরি হচ্ছে সিরিজটি। ‘ক্যাকটাস’ পরিচালনা করছেন শিহাব শাহীন।



