ফরাসি সরকারের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং তলব করা সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির না হওয়ায় দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে প্রায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এখন থেকে ফরাসি সরকারের কোনও সদস্য বা মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন না তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে একজন কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট নিহতের ঘটনা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্যের জেরে রাষ্ট্রদূত কুশনারকে সোমবার তলব করেছিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।
অ্যাক্টিভিস্ট কুয়েন্টিন দেরঙ্ককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কট্টর বামপন্থিদের লড়াইয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা পুরো ফ্রান্সকে স্তম্ভিত করেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে একে ‘ফ্রান্সের চার্লি কার্ক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ফ্রান্সে মার্কিন দূতাবাস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার-টেররিজম ব্যুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, তারা এই মামলাটি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলে, ফ্রান্সে ‘সহিংস কট্টর বামপন্থা’ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ফ্রান্সের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কুশনারের এই মন্তব্য তাদের জাতীয় বিতর্কের বিষয়, যা কেবল ফ্রান্সেরই অভ্যন্তরীণ ইস্যু। এটি অন্য কোনও দেশের শোষণের হাতিয়ার হতে দিতে তারা রাজি নয়।
সূত্রটি আরও জানায়, একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার যে সম্মান ও ন্যূনতম প্রত্যাশা থাকে, কুশনার তা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন যে, তাকে যেন আর ফরাসি সরকারের কোনও সদস্যের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া না হয়।
রাষ্ট্রদূত কুশনার এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তলবে হাজির হতে ব্যর্থ হলেন। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও তাকে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সে সময় ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন তিনি। তখনও তিনি মন্ত্রণালয়ের তলবে উপস্থিত হননি।



