Uncategorized

ইরানে হামলার ঝুঁকি নিয়ে ট্রাম্পকে শীর্ষ জেনারেলের সতর্কতা

ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই পরিকল্পনার নেপথ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে উঠে এসেছে চরম সতর্কবার্তা। পেন্টাগনের শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, পর্যাপ্ত গোলাবারুদের অভাব এবং মিত্রদের সমর্থনের ঘাটতি এই অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তার উদ্বেগের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল রক্ষা এবং ইউক্রেনকে সহায়তার কারণে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুদ বর্তমানে অনেকটা শেষ পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের মতো বড় দেশের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান চালানো মার্কিন সেনাদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কেইন আরও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো এই হামলায় সরাসরি সমর্থন দিতে দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তারা নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না। এমনকি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে হলে কয়েক শ’ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হবে। আর যদি লক্ষ্য হয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, তবে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রয়োজন পড়বে। এতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হবে।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, গত এক বছরে গোলাবারুদ ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদ এতই কমেছে যে, প্রতিরক্ষা দফতর কংগ্রেসের কাছে ৩০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি বরাদ্দ চেয়েছিল, যার মাত্র আংশিক পূরণ হয়েছে।

অবশ্য এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প একে ‘শতভাগ ভুল’ বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে, জেনারেল কেইন যুদ্ধের বিরোধী নন। তিনি বলেন, জেনারেল হয়তো সামরিক সংঘাত দেখতে চান না, তবে যুদ্ধ হলে তিনি মনে করেন আমরা অনায়াসেই জয়ী হব।

যদিও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ট্রাম্পের এই আশাবাদের সঙ্গে একমত নয়। তারা বলছে, কেইন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের অনুগত থাকলেও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো পেশাদারিত্বের সঙ্গেই তুলে ধরেছেন।

চলতি সপ্তাহেই জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এত সামরিক চাপের মুখেও ইরান কেন নতি স্বীকার করছে না। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, জানতে চান কেন আমরা আত্মসমর্পণ করছি না? কারণ আমরা ইরানি।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লেবানন থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের হিসাব কষছে।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button