হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে সবার আগে সেমিতে ইংল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচটা ছিল বাঁচা-মরার। তাতে শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। সুপার এইটে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে হ্যারি ব্রুকের দল।
পাল্লেকেলেতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হ্যারি ব্রুক। ১৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিজে ব্যাট করতে নামেন তিন নম্বরে। তার পর প্রান্ত আগলে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তার একক নৈপুণ্যে জয়ের মঞ্চ গড়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ব্রুকের বিদায়ের পর শেষটা নড়বড়ে হলেও ৫ বল হাতে রেখে তার দল জয় নিশ্চিত করে।
অধিনায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টে নেপালের বিপক্ষে ৫৩ রান করেন ব্রুক। তার পর চার ইনিংসে স্পিনে বারবার ভুগে বিশের নিচেই থামতে হয়েছে তাকে। জবাবে ব্যাটিং অর্ডারে পাঁচ নম্বর থেকে এদিন উঠে এলেন তিন নম্বরে। তখন লক্ষ্য ছিল একটাই—পাওয়ারপ্লেতে আধিপত্য। যদিও এবারও ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। রান তাড়ায় প্রথম বলেই ফিরে যান ওপেনার ফিল সল্ট। তার পর নামেন ব্রুক।
পাওয়ারপ্লেতে আফ্রিদি তিন উইকেট নিলে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। মাঝের দিকে উসমান তারিক দু’বার আঘাত হানলে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫৮। পরে ব্রুকের ব্যাটেই স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০৩। এক প্রান্ত আগলে রান তুলতে থাকেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেন স্যাম কারান (১৬), উইল জ্যাকস (২৮)। ব্রুক সেঞ্চুরি পূরণ করেন ৫০ বলে। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরের বলে আফ্রিদির নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড হলেও ততক্ষণে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে মাত্র ১০ রান। ব্রুকের ৫১ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছয়।
কিন্তু তখন সহজ কাজটিও কঠিন করে তোলে ইংল্যান্ড। মোহাম্মদ নওয়াজের ওভারে দুটি উইকেট পড়লে অপ্রত্যাশিত কিছুর শঙ্কা জাগে! যার ফলে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। কিন্তু জোফরা আর্চার মিডউইকেট দিয়ে সালমান মির্জার প্রথম বলে চার মেরে নিশ্চিত করেন স্বস্তির জয়। যার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সেমিফাইনালও। এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ডের।
পাকিস্তানের হয়ে ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন শাহীন আফ্রিদি। দুটি করে নিয়েছেন মোহাম্মদ নওয়াজ ও উসমান তারিক।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ। শেষ গ্রুপ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতেই হবে। পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।
শুরুতে টস জিতে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬৪ রানে থামে পাকিস্তান। ইন ফর্ম সাহেবজাদা ফারহানের ৪৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস সত্ত্বেও মাঝের ওভারে স্পিনের বিপক্ষে থমকে যায় তাদের ব্যাটিং। তার পরও শাদাব খান ১১ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন। ফারহানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছয়। শাদাবের ইনিংসে ছিল ৪টি চারের মার।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন লিয়াম ডসন। দুটি করে নেন জোফরা আর্চার, জেভি ওভারটন।



