মাতাল হয়ে বিড়ালছানাদের নদীতে ফেলে কারাদণ্ড

নভেম্বরের এক বিকেল। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের টুইকেনহাম ব্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫৯ বছর বয়সী আন্দ্রু শেফার্ড। তার হাতে ছিল একটি বাক্স। আর সেই বাক্সের ভেতরে ছিল তার নিজের মেয়ের তিনটি ছোট্ট বিড়ালছানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বলেছেন, শেফার্ড তখন মাতাল ছিলেন। আচমকাই তিনি বাক্সটি খুলে বিড়ালছানাগুলোকে একে একে টেমস নদীতে ছুড়ে ফেলেন। কেউ কেউ তাকে চিৎকার করে বলতে শুনেছেন, ‘ওদের মরতে দাও’।
ঘটনাটি মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় আশপাশের মানুষকে।
পরে আদালতে জানা গেছে, একটি বিড়ালছানা পানিতে পড়ার আগেই ধরা পড়ে। বাকি দুটিকে ভেজা ও কাদামাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ভাগ্যক্রমে তিনটিই বেঁচে যায়। ইতোমধ্যে তাদের দত্তক দেওয়া হয়েছে। তারা এখন নতুন ঘরে, নিরাপদ আশ্রয়ে।
আদালতে আন্দ্রু শেফার্ড তিনটি সুরক্ষিত প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাকে ১৭ সপ্তাহের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবে তা ১৮ মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর পুলিশকে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি খারাপ বোধ করছেন। অনুশোচনা করছেন। তার ভাষ্য, তিনি তখন মাতাল ছিলেন।
আদালতে নিজের পক্ষে বলতে গিয়ে শেফার্ড বলেন, আমি যা করেছি সে জন্য খারাপ লাগছে। আমি সাধারণত এরকম নই। তখন আমার কী হয়েছিল জানি না। মদ আমাকে অচল করে দিয়েছিল।
বিচারক এলিজাবেথ ইভান্স জেপি মন্তব্য করেন, তার কাজ শাস্তির যোগ্য এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট গুরুতর। তবে প্রোবেশন সার্ভিস মনে করেছে, শেফার্ডের পুনর্বাসনের সম্ভাবনা আছে। সেই কারণেই সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে।
শেফার্ডকে ৩০ দিনের পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি তাকে ১৫৪ পাউন্ড সারচার্জ ও ৮৫ পাউন্ড খরচ পরিশোধ করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি



