Uncategorized

ফরিদপুরে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা এলাকায় জনতা জুটমিলে পায়ুপথে উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করিয়ে এক কিশোর শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোর মারা যায়।

নিহত সজিব শরীফের (১৩) বাড়ি দাদপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে। সে ডোবরা এলাকায় অবস্থিত জনতা জুটমিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর গ্রামের কয়েক শ মানুষ জুটমিলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে মিল ছুটির আগে সজিব ও ১৩ বছর বয়সী আরেক কিশোর শ্রমিক উচ্চচাপের হাওয়ার মেশিন দিয়ে মিলের আঙিনা পরিষ্কার করছিল। এ সময় দুষ্টুমির ছলে অপর কিশোর সেই বাতাস সজিবের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এতে সজিব গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মিল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সজীবের অস্ত্রোপচার করা হলে রাতেই মৃত্যু হয়।

তবে ঘটনার পর মিলের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানো এবং তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি নিহত কিশোরের বাড়ি বোয়ালমারী ইউনিয়নে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সজিবের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা থেকে এখনও গ্রামের বাড়িতে আসেনি। মরদেহ আসার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। তবে লিখিত অভিযোগ এখনও থানায় জমা দেয়নি কেউ।’

এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে ক্ষোভের পাশাপাশি মিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিশুশ্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ বছর বয়সী দুই কিশোর কীভাবে ভারী শিল্পকারখানায় কাজ করছিল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। শ্রম আইন ও কারখানার নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button