ইসরায়েলে মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমান মোতায়েন

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি ব্যাপকহারে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-২২ স্টিলথ ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং বিমান পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যুদ্ধবিমানগুলো গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার সেখান থেকেই এগুলো ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও এই সামরিক তৎপরতা নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অঙ্গীকার করেছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে হামলা এখন ‘অনিবার্য’। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক কর্মকর্তা বলেন, “এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধান হওয়াটাই হবে এ বছরের সবচেয়ে বড় বিস্ময়।”
ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্স লেকেনহিথ থেকে মোট ১২টি এফ-২২ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করতে দেখা গেছে। এফ-২২ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত, যা এর গতি, কৌশল এবং রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতার (স্টিলথ) জন্য অদ্বিতীয়। সাধারণত যৌথ মহড়া ছাড়া ইসরায়েলি ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এমন মোতায়েন বিরল ঘটনা।
ওপেন সোর্স অ্যানালিস্টদের মতে, গত কয়েক দিনে এফ-৩৫, এফ-২২, এফ-১৫ এবং এফ-১৬-সহ কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর এটিই সবচেয়ে বড় সমাবেশ বলে মনে করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেছেন, “ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ সবসময়ই কূটনীতি। তবে প্রয়োজন হলে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতেও দ্বিধা করবেন না।”
অন্যদিকে, সিআইএ ফারসি ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপদে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার উপায় বলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা একটি ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান কখনোই শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকার ছেড়ে দেবে না।
কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) স্থলবাহিনী দেশটির দক্ষিণ উপকূলে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ড্রোন, মর্টার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলে শত্রুপক্ষের কাল্পনিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মহড়া চালিয়েছে তারা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরান ও মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত অক্ষকে মোকাবিলা করতে ইসরায়েল একটি নিজস্ব আঞ্চলিক জোট তৈরির কাজ করছে। এই জোটে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) প্রধান আইয়াল জামির এবং মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন যেন আলোচনা দীর্ঘায়িত করে ইরানকে সুযোগ দেওয়া না হয়।



