অমর একুশে উপলক্ষে বই বিনিময় উৎসব

অমর একুশে বইমেলা সবার পরিচিত। মেলায় স্টল থাকবে, বইপ্রেমীরা বই কিনবেন, এটাই চিরায়ত নিয়ম। কিন্তু সেই চিরপরিচিত নিয়ম ভেঙে ব্যতিক্রমী এক বই উৎসবের আয়োজন হয়েছে কুড়িগ্রামে। এই বই উৎসবে পাঠককে টাকা দিয়ে কোনও বই কিনতে হবে না। পাঠক তার পাঠ করা বইয়ের বিনিময়ে বই উৎসবের স্টল থেকে পছন্দের যেকোনও বই নিতে পারছেন। বইয়ের বিনিময়ে বই!
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা শহরের কলেজ মোড়ে ‘স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভ’ প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে বই বিনিময় উৎসব’ নামে দুই দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন হিজিবিজি ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। এদিন সকালে জাতীয় সংগীত ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের প্রশংসার পাশাপাশি বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাঠকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি আয়োজনকে উৎসবে পরিণত করে।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, রাজনীতি, ইতিহাস ও শিশুসাহিত্যের বই নিয়ে মোট তিনটি স্টল বসেছে। বিশেষ করে, হুমায়ূন আহমেদ এবং একাডেমিক বইয়ের স্টলে পাঠকদের ভিড় ছিল লক্ষ করার মতো। বিনামূল্যে নিজের পঠিত বইটি দিয়ে অন্য একটি বই সংগ্রহের এই অভিনব ধারণা জেলার সব প্রান্তে বইপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার আয়োজনের শেষ দিন।
কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজি শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সত্যি চমৎকার একটি পদ্ধতি। বই বিনিময়ের এই সংস্কৃতি পাঠকদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবে। নিজের পঠিত বই অন্যকে পড়তে দেওয়া এবং নতুন বই সংগ্রহের এই সুযোগ কুড়িগ্রামের বইপ্রেমীদের জ্ঞানচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করল।’
বই উৎসবে আসা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষক পলাশ রায় বলেন, ‘বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ। যা বিনিময়ে কমে না, বরং বাড়ে। আমি মনে করি, তরুণদের আয়োজনে এই উৎসব সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।’
বই উৎসবটি সফল করতে দিনরাত কাজ করেছেন আয়োজকরা। তাদের মতে, পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই আয়োজনের সার্থকতা।
আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম তানিম বলেন, ‘আমরা চেয়েছি পাঠকদের ব্যক্তিগত সংগ্রহকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে। কোনও খরচ ছাড়াই নতুন বই পড়ার এই সুযোগ পাঠকদের দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। বই বিনিময় উৎসব কেবল বই দেওয়া-নেওয়া নয়, এটি বইপ্রেমীদের একটি সেতুবন্ধন। প্রথম দিনে শতাধিক বই বিনিময় হওয়া আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।’
আয়োজক সংগঠন হিজিবিজি সাধারণ সম্পাদক রাজ্য জ্যোতি বলেন, ‘শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চায় হিজিবিজি সব সময় নতুন কিছু করতে চায়। এই উৎসবের মাধ্যমে কুড়িগ্রামে একটি বই বিনিময় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’



