Uncategorized

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে চীন

আগামী মাসে বেইজিংয়ে এক রাজকীয় অভ্যর্থনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই সফরের ঠিক আগে তার অন্যতম প্রধান অস্ত্র ‘শুল্ক নীতি’ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায় ট্রাম্পের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ফলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার আগে আলোচনার সমীকরণ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে হোয়াইট হাউজকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের একটি বিশেষ ক্ষমতা খর্ব করেছে। আদালত জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর আওতায় প্রেসিডেন্ট আর হুটহাট শুল্ক বসাতে পারবেন না। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন ট্রাম্প। আদালতের রায়কে পাশ কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যদিও মঙ্গলবার থেকে এটি ১০ শতাংশ হারে কার্যকর হয়েছে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো জংইউয়ান লিউ বলেন, “এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে প্রেসিডেন্ট এখন চাইলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন না। বেইজিং অবশ্যই বিষয়টিকে ট্রাম্পের দুর্বলতা হিসেবে দেখবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বেইজিংকে তাৎক্ষণিক বড় কোনও অর্থনৈতিক স্বস্তি না দিলেও এটি তাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক জয়। কারণ, গত বছর ট্রাম্প এই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই চীনের ওপর শুল্কের হার ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিলেন। যদিও চীনের ওপর মূল শুল্কগুলো (সেকশন ৩০১) এখনও বহাল আছে, তবে ট্রাম্পের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী একটি অস্ত্র এখন ভোঁতা হয়ে গেলো।

ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের পরিচালক ইউন সান মনে করেন, এটি ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার কৌশলের ওপর একটি রাজনৈতিক আঘাত।

শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তাপ বাড়াচ্ছে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি এবং বেইজিংয়ের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার মার্কিন অভিযোগ। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে নতুন করে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি শি-ট্রাম্প বৈঠকের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “আমি এ নিয়ে শি-র সঙ্গে কথা বলছি। আমরা দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।” তবে এই মন্তব্য নিয়ে কূটনীতিবিদদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ট্রাম্প সম্ভবত তাইওয়ান প্রশ্নে ১৯৮২ সালের ‘সিক্স অ্যাসুরেন্স’ চুক্তি লঙ্ঘন করতে যাচ্ছেন, যেখানে বলা ছিল অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেইজিংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন নেই।

হোয়াইট হাউজ আগামী ৩১ মার্চ থেকে ট্রাম্পের তিন দিনের বেইজিং সফরের তারিখ ঘোষণা করলেও বেইজিং এখনও প্রকাশ্যে তা নিশ্চিত করেনি। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন আদালতের রায়ের প্রভাব খতিয়ে দেখছে এবং হোয়াইট হাউজের যেকোনও ‘বিকল্প ব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের মতো বহুমুখী সংকটে হোয়াইট হাউজ ব্যস্ত থাকায় বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রাথমিক কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এত জটিলতার মধ্যেও ট্রাম্প বেইজিং সফর নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত ভালো’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফর হবে ‘চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী’।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button