Uncategorized

প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারের পথে ভারত-ইসরায়েল

নয় বছর পর ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও সন্ত্রাস দমন সম্পর্ক আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লমবার্গ এ খবর জানিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাণিজ্য পরিধি বাড়ানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে পরিকাঠামো উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, এটি দুই দেশের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথ তৈরি করেছে। মোদি তার ভাষণে বলেন, আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে ভারত ও ইসরায়েলের মতো বিশ্বাসী অংশীদারদের মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সফরে মোদি ইসরায়েলের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার একটি বড় চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতীয় এক সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গোপন এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা কম, কারণ দুই পক্ষই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই সামনে রাখতে চায়।

ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি। প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্র যৌথভাবে তৈরি করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সফরের আগে জানান, তারা একটি গভীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তি চান, যাতে আরও সংবেদনশীল প্রকল্পে সহযোগিতা সম্ভব হয়।

২০২৪ সালে টানা তৃতীয়বার জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা মোদি ইসরায়েলের একজন কঠোর সমর্থক এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রয়েছে। নেতানিয়াহুকে তিনি প্রায়ই বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। গাজা যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের কারণে ইসরায়েলের অন্যান্য মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়েও মোদি এই সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিন ইস্যুসহ সমগ্র অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির প্রতিশ্রুতি।

এই সফরে বাণিজ্যের দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইসরায়েলি আলোচকরা এই সপ্তাহেই ভারত সফর করে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। ইসরায়েলের অর্থ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ছাড়া পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, মোদির সরকার ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রেতা, যা মোট অস্ত্র রফতানির ৩৪ শতাংশ।

এমন সময়ে ভারত ও ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদার করছে, যখন তাদের নিজ নিজ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা জোট গঠন করছে। পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কও এই জোটে যোগ দিতে চাইছে, যা এই উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, দুই নেতাই নিজেদের বিপজ্জনক এলাকায় নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে দেখেন, যেখানে ইসলামি জঙ্গিবাদের হুমকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের প্রয়োজন মতো সাহায্য করছে না বলে তারা আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button