দেশের অর্থনীতিতে টানা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি

দেশের অর্থনীতিতে মন্দার ধারা আরও স্পষ্ট হলো। টানা তৃতীয় বছরের মতো কমে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা করোনা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের ওয়েবসাইটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করে। চূড়ান্ত প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাময়িক হিসাবের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৪৮ বেসিস পয়েন্ট কমেছে।
তিন বছরে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১–২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। পরের বছর ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও নেমে আসে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়াল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
এতে স্পষ্ট হয়েছে, টানা তিন বছর ধরে অর্থনীতির গতি শ্লথ হচ্ছে। সর্বশেষ এত কম প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল ২০১৯–২০ অর্থবছরে, যখন করোনা মহামারির প্রভাবে প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে।
অর্থনীতির আকার ও মাথাপিছু আয়
চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টানা দুই বছর হ্রাসের পর মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ ডলার।
খাতভিত্তিক চিত্র
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির গতি আগের বছরের তুলনায় শ্লথ হয়েছে। তবে শিল্প খাতে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কিছুটা সহায়তা করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রভাব প্রবৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়েছে। সামনের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির গতি পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ, রফতানি ও ভোগ ব্যয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



