প্রকাশকদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে : আলমগীর মোহাম্মদ

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?
আলমগীর মোহাম্মদ: ধন্যবাদ। এবার নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ‘কুইন্টেসেন্স অব নজরুল’ প্রকাশিত হচ্ছে৷ নজরুল সাহিত্যের এই ইংরেজি সংকলনে ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসটির অনুবাদ আসবে৷ ৭টি নাটক-নাটিকা, ৫টি গল্প, কয়েকটি প্রবন্ধ, প্রতিভাষণ-অভিভাষণ এবং চিঠিপত্রও স্থান পেয়েছে আমার অনুবাদে। বেঙ্গলবুকস থেকে আসছে ‘নিউ নরমাল অ্যান্ড আদার পোয়েমস—পিয়াস মাজিদ’ যেটার ভূমিকা লিখেছেন প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া প্রিন্টপুকুর থেকে আসবে ‘সিলেক্টেড পোয়েমস অব জীবনানন্দ দাশ’।
প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন? বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি এই বইয়ের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?
উত্তর: নজরুল সাহিত্যে চিরন্তন। মৃত্যুক্ষুধার প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। জীবনানন্দ দাশের কবিতাও আমাদের এই প্রেক্ষাপটে দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক। পিয়াস মজিদের কবিতা তো আমাদের সময়ের প্রতিফলন।
প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল, এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে?
উত্তর: আসলে আমরা সৃজনশীলতাবিমুখ জাতি। অমর একুশে বইমেলা নিয়ে এক শ্রেণির কূপমণ্ডূক মানুষজন সবসময় ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারই প্রতিফলন এবারের অনিশ্চয়তা সিম্পটম। বইমেলা হওয়া দরকার আমাদের জাতীয় উৎসব। এর আয়োজন, পরিচালনা ও সফলতায় সকলের সমান আন্তরিক অংশগ্রহণ ও প্রচেষ্টা থাকা উচিত। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উন্নাসিকতা তো এক্ষেত্রে এবার দৃশ্যমান।
প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?
উত্তর: আশা করি সেভাবে প্রভাব পড়বে না। ইফতারের পর মেলা আরো জমজমাট হবে বলে আমি মনে করি।
প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা দেখেছি, অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?
উত্তর: আশা করি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল একটি নির্বাচিত সরকার পেতে যাচ্ছি আমরা। এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে, বা প্রতিক্রিয়াশীল কোনো গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতায় চেপে বসলে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হতে পারে।
প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?
উত্তর: প্রকাশকদের মধ্যে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা, বই প্রকাশের ক্ষেত্রে যত্নবান হওয়া এবং সর্বোপরি লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া মেলা আয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরো কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: মেলায় এবং সারা বছর যত বই প্রকাশিত হয় তার ডিজিটাল ডেটাবেইজ কি বাংলা একডেমি বা কোনো কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করতে পারে?
উত্তর: বাংলা একাডেমি, অথবা জাতীয় গ্রন্থাগার অথবা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কাজটি হতে পারে।
প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?
উত্তর: পাঠক-লেখক সম্পর্ক নিয়ে বলতে গেলে আগে বলতে হয় লেখক-পাঠক সম্পর্কের কথা। পাঠককে জোর করে গছিয়ে দেওয়া সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে ভ্যানিটি প্রকাশক ও লেখকদের। এখানে লেখকের অবস্থান হবে অথরের মৃত্যুর মতো।
প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন বলে মনে করেন?
উত্তর: গুটিকয়েক প্রকাশনী ছাড়া বাকিরা আসলে বই কী বোঝেন না। প্রকাশকদের মধ্যে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে লেখককে বুঝতে হবে লেখালেখি বিলাসিতা নয়, একটা নৈতিক দায়বদ্ধতা।



