Uncategorized

একীভূত হচ্ছে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়? 

দীর্ঘ তিন দশক পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আবারও একীভূত হতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী উভয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা ডালপালা মেলতে শুরু করে। 

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সমন্বিত অবস্থান 

নতুন সরকারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা— উভয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আ এন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ববি হাজ্জাজকে। গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম কর্মদিবসে দুই মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষ নেতা একসঙ্গে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রথম দিনেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মিলন ভাই আমার বড় ভাই, তার অভিজ্ঞতা অনেক। আমরা দুজনে মিলে জনগণের আস্থায় ফিরতে একসঙ্গে কাজ করবো।”  

মন্ত্রণালয় একীভূত হওয়া প্রসঙ্গে যা জানা গেলো 

দুই মন্ত্রণালয় দাফতরিকভাবে একীভূত হচ্ছে কিনা— এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুই মন্ত্রণালয় আমরা একত্রে পরিচালনা করছি, মন্ত্রী মহোদয় এবং আমি একসঙ্গে কাজ করছি। অফিসিয়ালি কখন এক হচ্ছে না হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।” 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান কাঠামো 

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের আগে কেবল ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ছিল এবং এর অধীনেই ছিল প্রাথমিক শিক্ষা। কিন্তু ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে একে দুই ভাগে বিভক্ত করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্য ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ এবং প্রাথমিক স্তরের জন্য ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’ গঠিত হয়।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বিভাগ রয়েছে— মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) রয়েছে। 

অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলাদা কোনও বিভাগ নেই। তবে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের দ্বৈততা লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো। 

সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর বর্তমান অবস্থা 

বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে মাউশি ও নায়েম-এর মতো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমি (নেপ)।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই মন্ত্রণালয় একীভূত হলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে এই প্রশাসনিক সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায়। 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button