Uncategorized

ইউএনজিএ সভাপতি পদে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস ওআইসি নেতাদের  

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেদ্দায় ফিলিস্তিন বিষয়ক ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী সভার ফাঁকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাক্লিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি।

প্রতিনিধি দলের নেতারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিপুল বিজয় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ত্বরান্বিত উন্নয়ন অর্জন করবে বলে তারা আস্থা প্রকাশ করেন। ফিলিস্তিনের স্বার্থে বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন তারা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন তারা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশ সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।

তুরস্কের মন্ত্রী কুলাকলিকায়া তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তুরস্ক যে সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে আসছে তার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষই এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণ জানান।

সৌদি মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে একটি সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাংলাদেশের জন্য বিস্তৃত খাতে অনেক সুযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে তার সরকার প্রস্তুত বলে জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। উভয় পক্ষই এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে।

ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে বড় ধরনের সংস্কার গ্রহণে বাংলাদেশের সহায়তার জন্য অনুরোধ জানান এলখারেইজি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দেন, ফিলিস্তিন ইস্যুর একমাত্র সমাধান হলো ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের স্বার্থে বাংলাদেশের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আরও বলেন, ফিলিস্তিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে আর না থাকলেও বাংলাদেশ এই পদে নির্বাচিত হলে এই স্বার্থ পুরোপুরি বহাল থাকবে। ফিলিস্তিনের মন্ত্রী বলেন, আরব-ইসলামিক সমর্থন থাকবে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আনা মামলাসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বার্থে তার সরকারের অব্যাহত সক্রিয় সমর্থনের জন্য গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনজিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য গাম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমর্থন দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনজি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন এবং এর সমর্থনে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button