Uncategorized

রাজা-রানির মতো বিজয়-রাশমিকার বিয়ে

ভারতের দক্ষিণী তারকাযুগল বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম সফল পরিণতি পেলো। ভালোবেসে বিয়ে করেছেন দু’জনে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক হলো তাদের চারহাত। বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন নবদম্পতি। কোনোটিতে দেখা যায়, বিজয়ের নাকে আদরের চুম্বন এঁকে দিচ্ছেন রাশমিকা। কিছু ছবিতে রয়েছে বিয়ের হরেক রকম রীতির আমেজ। একটি ছবিতে দেখা যায়, ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে এসেছেন বিজয়। সব মিলিয়ে যেন রাজা-রানির মতো রাজকীয় বিয়ে!

গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল-সন্ধ্যা দু’বার বিয়ে করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। সুপ্রাচীন অরাবলী পাহাড়ঘেরা উদয়পুরের একটি রিসোর্টে সকালে বরের পরিবারের তেলুগু ঐতিহ্য মেনে এবং সন্ধ্যায় কনেপক্ষের কোডাভা রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কোডাভা কর্ণাটকের কুর্গ জেলার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে বেড়ে উঠেছেন ২৯ বছর বয়সী রাশমিকা।

ভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়কে সম্মান জানাতে দুটি ভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার আইডিয়া ৩৬ বছর বয়সী বিজয়ের। সাদা ধুতি ও লাল রঙের উত্তরীয় পরে বিয়েতে হাজির হন তিনি। অন্যদিকে টকটকে লাল রঙের শাড়ি বেছে নিয়েছেন রাশমিকা। তার ব্লাউজে দেখা গেছে জমকালো কারুকাজ। মাথায় নজরকাড়া সোনার টায়রা। সেই সঙ্গে ছিলো সোনার গয়না।

বিয়েতে রাশমিকাকে পারিবারিক বালা উপহার দিয়েছেন বিজয়ের মা। কলা ও ডাবের জল দিয়ে বিজয়কে বরণ করা হয়। জনশ্রুতি আছে, দক্ষিণী বিয়েতে কুনজর এড়াতে বর ও কনের গালে নকল তিল আঁকা হয়। তাই বুঝি বিজয় ও রাশমিকার গালে দেখা গেছে একটি করে কালো তিল।

ভক্তরা এই যুগলকে ভালোবেসে ডাকে ‘বিরোশ’। যদিও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি বিজয় ও রাশমিকা। অনেকদিন ধরে তাদের বিয়ে নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে বিয়ের বন্ধনে জড়িয়ে থিতু হলেন দক্ষিণী তারকাজুটি। 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবারকে নিয়ে উদয়পুর পৌঁছান বিজয়-রাশমিকা। দুই দিন ধরে সংগীত, গায়েহলুদ, মেহেদিসহ প্রাক-বিবাহের একাধিক আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বর-কনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।

বিয়ের দিন মনের কথা উজাড় করে দিয়েছেন বিজয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘একদিন, তাকে খুব মনে পড়ছিলো আমার। এতোটাই মনে পড়ছিলো যে, মনে হচ্ছিলো সে পাশে থাকলে আমার দিনটা খুব ভালো কাটতো। সে পাশে বসে থাকলে আমার খাওয়া-দাওয়া স্বাস্থ্যকর লাগতো। সে আমার সঙ্গে জিমে থাকলে ক্লান্তি কম লাগতো এবং আনন্দ বেশি হতো। আমি যেখানেই থাকি না কেন, ঘরের স্বর্গীয় ও প্রশান্তি অনুভবের জন্য আমার তাকে দরকার ছিলো। তাই আমি প্রিয় বন্ধুকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছি। ২৬.০২.২০২৬।’

যেকোনো সাক্ষাৎকারে বিজয়ের নাম শুনলেই লাজুক হতেন রাশমিকা। তবে স্বীকার করেননি কখনো। বিয়ের দিন তিনিও স্বামীর জন্য লিখলেন দীর্ঘ পোস্ট। মনের সব কথা উজাড় করে দিলেন নববধূ।

বিয়েতে নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বিজয়ের ‘অর্জুন রেড্ডি’ ও রাশমিকার ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি বাঙ্গাসহ বি-টাউনের কয়েকজন। অতিথিদের জন্য বিশেষ নৈশভোজে জাপানি খাবারের আয়োজন করা হয়। অতিথিদের জন্য খেলাসহ বেশ কিছু মজার ব্যবস্থা রাখা হয়।

বিয়েতে এলাহী আয়োজনের জন্য বিজয়-রাশমিকার এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে আড়াই কোটি রুপির মতো খরচ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের আগে-পরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিবাহোত্তর সংবর্ধনাসহ সব মিলিয়ে তাদের খরচ প্রায় ৫০ কোটি রুপি ছুঁয়ে ফেলবে। রাজস্থানের উদয়পুরে বিলাসবহুল রিসোর্টের সবখানেই শৌখিনতার ছোঁয়া। এখানে আছে ১১৭টি কামরা। এরমধ্যে কিছু স্যুইট ও ভিলা। একেক ঘরে প্রতি রাতযাপনের খরচ ২০ থেকে ৫০ হাজার রুপি। কয়েকটি বিশেষ ভিলার খরচ প্রায় ৭০ হাজার রুপি।

জানা গেছে, আগামী ৪ মার্চ বিজয় ও রাশমিকার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আসর বসবে। দক্ষিণী তারকাদের কথায় মাথায় রেখে এই প্রীতিভোজের আয়োজন করা হচ্ছে ভারতের হায়দরাবাদে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button