হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী হত্যা: আসামি সিয়ামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগের মামলায় আসামি সিয়ম হোসেন ইমন (১৯) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করেন। পরে আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সিয়ামকে রাজধানীর কাঁঠালবাগান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামি সিয়ামের সঙ্গে হাজারীবাগের শিকড় আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় একই শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে ভিকটিম শাহরিয়ার শারমিন বিন্তির (১৫) পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে ঘটে। পরবর্তীকালে আসামির মামা হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসকালে আসামি ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা অব্যাহত রাখে। পরবর্তীকালে আসামির মামা রামপুরা এলাকায় বাসা পরিবর্তন করলে আসামি রামপুরায় বসবাস শুরু করলেও সে নিয়মিত হাজারীবাগ এলাকায় এসে ভিকটিমের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বন্ধুর মাধ্যমে ভিকটিমের একাধিক প্রেম ও বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ট ছবি থাকার বিষয়ে আসামি জানতে পারে। এ বিষয় নিয়ে আসামি একাধিকবার ভিকটিমকে প্রশ্ন করলে ভিকটিম তা অস্বীকার করে এবং তার অন্য কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানায়।
এরপর তাদের সম্পর্ক কিছুদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকে। গত বছরের অক্টোবর থেকে পুনরায় তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়। তবে ভিকটিমের আচরণ ও কথাবার্তা আসামি সিয়ামের কাছে সন্দেহজনক মনে হতে থাকে। তদন্ত সূত্রে জানা যায় , আসামি তার পরিচিত আবরার আলিফ নামে এক বন্ধুর মাধ্যমে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ভিকটিম তাতে রাজি হয়। বিষয়টি প্রমাণস্বরূপ আসামি ভিকটিমের কাছে তুলে ধরলে ভিকটিম পুনরায় তা অস্বীকার করে। এর প্রেক্ষিতে আসামি ভিকটিমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভিকটিম দোষ স্বীকার না করায় তাকে হত্যা করবে এমন পূর্বপরিকল্পনা করে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার দিন আসামি ট্যানারি মোড় থেকে একটি ধারালো চাকু কিনে পকেটে রেখে দেয়। ওইদিন সন্ধ্যায় আসামি রায়েরবাজার স্কুলের সামনে ভিকটিমকে দেখা করার জন্য ডাকে। উভয়ের দেখা হলে তারা রিকশাযোগে বাংলামোটর এলাকায় যায় এবং সেখান থেকে পুনরায় হাজারীবাগ এলাকায় রায়েরবাজার হাইস্কুলের সামনে এসে নেমে পায়ে হেঁটে ভিকটিমের বাসার কাছে ঘোরাফেরা করে। এ সময়ে আসামি ভিকটিমকে তার আচরণ সম্পর্কে জানতে চায়। ক্ষমা চাইতে বলে। ভিকটিম আগের মতোই অনত্র সম্পর্ক থাকার বিষয় অস্বীকার করে। এরপর আসামি হঠাৎ ভিকটিমকে এক হাতে জাপটে ধরে এবং অপর হাতে চাকু দিয়ে ভিকটিমের পেটে ও পিঠে আঘাত করে। আঘাতের একপর্যায়ে ভিকটিম গুরুতর জখম হয়ে শরীর রক্তাক্ত হয়ে গেলে আসামি ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। ভিকটিম দৌড়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। আসামি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নিজের গায়ের জামায় চাকুর রক্ত মুছে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে তার বাবা ও চাচার মাধ্যমে দাদার বাসা কাঁঠাল বাগানে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। তার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও রক্ত মাখা শার্ট উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় বিন্তির বাবা মো. বিল্লাল হোসেন বৃহস্পতিবার হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।



