আফগান-পাকিস্তান সর্বশেষ উত্তেজনা সম্পর্কে যা জানা গেলো

প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির একাধিক প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করার ঘোষণা দেয় তালেবান সরকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত জুড়ে এখন ভয়াবহ অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে।
যেভাবে সংঘাতের শুরু
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে নানগারহার, নুরিস্তান, কুনার, খোস্ত ও পাকতিয়া সীমান্তে তালেবানের অভিযান শুরু হয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, তাদের অভিযানে ‘অসংখ্য’ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও কয়েকজন আটক হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করেছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শুক্রবার ভোরে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বোমা হামলা চালায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তার দেশের বাহিনী শত্রুদের ‘গুঁড়িয়ে দিতে’ সক্ষম। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেছেন, তাদের অভিযানে দুই শতাধিক তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ড্রোন হামলা ও নতুন মোড়
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আফগান ড্রোনগুলো নওশেরা, অ্যাবোটাবাদ এবং সোয়াবির তিনটি সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করেছিল। তবে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সবকটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংঘাতের বিশেষত্ব হলো পাকিস্তান এবার সরাসরি তালেবান সরকারের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পাকিস্তান এখন সরাসরি তালেবান শাসনের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
কেন এই অস্থিরতা?
গত অক্টোবর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তাদের দেশে হওয়া বিভিন্ন আত্মঘাতী হামলার পেছনে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের মদত রয়েছে। তবে তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান উস্কানি ছাড়াই আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলায় ইরান এই সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা অবিলম্বে লড়াই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আফগান সামরিক প্রধান কারি মুহাম্মদ ফাসিহউদ্দিন এক ভিডিও বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানকে আরও ‘শক্তিশালী’ জবাব দেওয়া হতে পারে।



