Uncategorized

কেন লিথিয়াম রফতানি নিষিদ্ধ করলো জিম্বাবুয়ে?

আফ্রিকার বৃহত্তম লিথিয়াম উৎপাদক দেশ জিম্বাবুয়ে সব ধরনের অপরিশোধিত খনিজ আকরিক এবং লিথিয়াম কনসেনট্রেট রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটির খনি মন্ত্রণালয় এক আদেশে অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। খনিজ সম্পদে অনিয়ম ও পাচার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

জিম্বাবুয়ের খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এমনকি বর্তমানে পরিবহনাধীন খনিজ আকরিকগুলোও এই আদেশের আওতায় পড়বে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থে খনি শিল্প সংশ্লিষ্টদের এই পদক্ষেপে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জিম্বাবুয়ে মূলত লিথিয়াম আকরিক ও কনসেনট্রেট রফতানি করে থাকে, যা ব্যাটারি তৈরির জন্য উপযোগী রাসায়নিক হিসেবে রিফাইন বা পরিশোধন করতে বিদেশে পাঠাতে হয়। কাঁচামাল রফতানিতে আয় অত্যন্ত কম হয়, কারণ খনিজ সম্পদের আসল মূল্য সংযোজন ঘটে বিদেশে পরিশোধনের স্তরে।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, খনিজ সমৃদ্ধ দেশগুলো কাঁচামাল রফতানি করে মোট মূল্যের সামান্য অংশই পায়। জিম্বাবুয়ে চায় খনি কোম্পানিগুলো দেশেই প্রক্রিয়াকরণ ও পরিশোধন কেন্দ্র গড়ে তুলুক, যাতে সস্তায় কাঁচামাল বিদেশে না পাঠিয়ে দেশেই এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যায়।

২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে ১১ লাখ ২৮ হাজার টন লিথিয়াম আকরিক রফতানি করেছে, যার বড় অংশই গেছে চীনে। গত বছর এই খাতে দেশটি ৫১৩.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকায় আগের বছরের তুলনায় আয় কিছুটা কমেছে। অথচ ২০২৬ সালের শুরু থেকে লিথিয়ামের দাম টন প্রতি ২ হাজার ডলারের উপরে উঠে এসেছে, যা গত বছরের জুনে ছিল মাত্র ৬১০ ডলার।

জিম্বাবুয়ের জিডিপিতে খনি খাতের অবদান ১৪.৩ শতাংশ। বর্তমানে চীনের হুয়াইউ কোবাল্ট, সিনোমাইন ও চেংক্সিন লিথিয়ামের মতো বড় কোম্পানিগুলো জিম্বাবুয়েতে বিনিয়োগ করেছে। হুয়াইউ ইতোমধ্যে দেশটিতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট তৈরি করেছে। এছাড়া সিনোমাইন ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্ল্যান্ট তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদার এই সময়ে কাঁচামাল রপ্তানি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করলেও, জিম্বাবুয়ে সরকার দেশীয় মূল্য সংযোজন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পথে হাঁটছে।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button