ওয়েব হোস্টিং খরচ কমানোর ৫ উপায়

নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা যেমন আনন্দের, তেমনি আয় বা জনপ্রিয়তা অর্জনের বড় সুযোগও এনে দিতে পারে। বিশেষ করে নতুন ব্লগার বা উদ্যোক্তাদের জন্য। তবে প্রথমবার সাইট তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় অ্যাড-অন ও লুকানো খরচের ফাঁদে পড়ে বাজেটের বাইরে চলে যান। ওয়েব হোস্টিং সেবার প্রযুক্তি নয়, বরং অতিরিক্ত সুবিধা বিক্রির কৌশলই অনেক সময় নতুনদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ওয়েব হোস্টিং খরচ বাঁচাতে নিচে দেওয়া হলো পাঁচটি কার্যকর কৌশল—
১. সবসময় বার্ষিক চুক্তি প্রয়োজন নেই
বেশিরভাগ হোস্টিং কোম্পানি প্রথমে বার্ষিক বা একাধিক বছরের প্যাকেজে কম দাম দেখায়। যেমন—মাসে ২ ডলারের অফার, যা এক বছরের পর নবায়নে অনেক বেশি হয়ে যায়। যদি আপনার ওয়েবসাইট সাময়িক কোনও কাজের জন্য হয় (যেমন ইভেন্ট বা ক্যাম্পেইন), তাহলে বার্ষিক প্যাকেজ নেওয়া অর্থের অপচয় হতে পারে।
মাসিক পেমেন্ট অপশন আছে কি না, তা যাচাই করুন। অনেক ভালো হোস্টিং সেবাই মাস-টু-মাস চুক্তির সুবিধা দেয়।
২. ‘ফ্রি ডোমেইন’ অফারে সতর্ক থাকুন
অনেক হোস্টিং কোম্পানি প্যাকেজের সঙ্গে বিনামূল্যে ডোমেইন দেয়। প্রথম বছরে এটি লাভজনক মনে হলেও পরের বছর নবায়ন ফি ১৫–৩০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
ডোমেইন নবায়নের হার আগে থেকেই জেনে নিন। প্রয়োজনে আলাদা ডোমেইন রেজিস্ট্রার ব্যবহার করলে খরচ কম হতে পারে।
৩. বিনামূল্যে ‘হুইজ’ প্রাইভেসি নিন
ডোমেইন নিবন্ধনের পর আপনার নাম ও ঠিকানা ‘হুইজ’ ডাটাবেজে প্রকাশিত হয়। ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশ পেলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কিছু হোস্টিং কোম্পানি এ সেবার জন্য আলাদা ফি নেয়। যেমন, হোস্টগেটার বছরে ১৪.৯৫ ডলার চার্জ করে। তবে ক্লাউডফ্লেয়ার, নেমচিফ বা প্রোকবান-এর মতো কিছু রেজিস্ট্রার বিনামূল্যে ‘হুইজ’ প্রাইভেসি দেয়।
৪. এসএসএল সার্টিফিকেটের জন্য বাড়তি টাকা দেবেন না
এসএসএল ( সিকিউর সকেটস লেয়ার) সার্টিফিকেট ওয়েবসাইটকে নিরাপদ করে এবং ব্রাউজারে এইচটিটিপিএস ও লক চিহ্ন দেখায়। অনেক হোস্টিং কোম্পানি বিনামূল্যে এসএসএল দেয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে নবায়নে চার্জ করা হয়।
এসএসএল-এর দাম বছরে ১০ ডলার থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। খরচ বাঁচাতে ক্লাউডফ্লেয়ার থেকে এসএসএল নেওয়া যায়।
তবে ই-কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে এসএসএল অবশ্যই প্রয়োজন; সাধারণ ব্লগের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়, যদিও নিরাপত্তার জন্য রাখা ভালো।
৫. সব নিরাপত্তা অ্যাড-অন নেওয়া জরুরি নয়
হোস্টিং কোম্পানিগুলো ম্যালওয়্যার স্ক্যানিং, ডেইলি ব্যাকআপ, ডিডস প্রোটেকশনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সেবা অফার করে। ব্যবসায়িক সাইটের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাধারণ ব্লগ বা শখের সাইটের ক্ষেত্রে সবকিছু নেওয়া প্রয়োজন নাও হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ব্লুহোস্ট ব্যাকআপের জন্য মাসে ২.৯৯ ডলার চার্জ করে, যা আপনি চাইলে নিজেই ম্যানুয়ালি করতে পারেন।
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে নিরাপত্তা প্লাগইন যেমন ওয়ার্ডফেন্স ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ক্লাউডফ্লেয়ার-এর ফ্রি প্ল্যান ডিডস প্রোটেকশন ও সিডিএন সুবিধা দেয়, যা আলাদা খরচ বাঁচাতে সহায়ক।
ওয়েবসাইট তৈরি করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাড-অন ও লুকানো ফি এড়িয়ে চললেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব। সঠিক গবেষণা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ওয়েব হোস্টিং খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।
সূত্র: পিসিম্যাগ



