Uncategorized

বাজেট বৃদ্ধি মনিটরিং-সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি

শিক্ষাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট ব্যয় সংক্রান্ত মনিটরিং জোরদার করা এবং সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ দাবি জানানো হয়। বর্তমান সরকারের ১২ দফা শিক্ষা সংস্কার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী। প্রস্তাবনার ওপর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকাস অধ্যাপক ডক্টর মনজুর আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্যাথলিক এডুকেশন বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক জ্যোতি এফ গমেজ। অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ১২ দফা এজেন্ডার পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযান প্রস্তাবনা তুলে ধরেন রাশেদা কে চৌধুরী।

গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রস্তাবনা

দফা-১: বাজেটের এনভেলপ বাড়ানো– শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া এবং তিন বছরে ধাপে ধাপে ‘ফিসক্যাল আপলিফট’ পরিকল্পনা করা।

প্রস্তাবনা

আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এই বরাদ্দ কোথায় কীভাবে কাদের জন্য ব্যয় হবে তা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝরে পড়া, বাল্যবিয়ের শিকার, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী (প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, চা বাগানের অধিবাসী) ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ চর, হাওর, পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

দফা-২: উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়ন– ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে আগেভাগে চালু।

প্রস্তাবনা

উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক ক্রয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর বাজেট অনুযায়ী ব্যয় করার সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারত্ব নিশ্চিতকরণের জন্য যথাযথ মেন্টরিং ও মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

দফা-৩: উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার-মিড-ডে মিল, আধুনিক ল্যাব এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা।

প্রস্তাবনা

মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের উৎসাহিত করতে তাদের কাছ থেকে নিরাপদ খাদ্য পণ্য ও উপকরণ সংগ্রহ করা। পণ্য ও উপকরণ সরবরাহে যেন কোনও সিন্ডিকেট গড়ে না উঠে সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। মিড-ডে মিল যেন ধাপে ধাপে সব বিদ্যালয়গামী শিশুর জন্য হয়, তা নিশ্চিত করা এবং যেসব উপজেলায় ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, সেখানকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। এছাড়াও অতি সম্প্রতি আদালত থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘পুনঃভর্তি ফি’ গ্রহণ না করার নির্দেশনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়।

গণসাক্ষরতা অভিযান বলছে, আমরা মনে করি, স্কুলগুলোতে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (বিশেষ করে স্যানিটারি প্যাড) সম্বলিত বিশেষ ‘ভেন্ডিং মেশিন’ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান (যেমন স্কয়ার ফার্মাসিটিউক্যাল, এসিআই, এসএমসি, আকিজ বা এ ধরনের কোম্পানিকে পার্টনারশিপে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

এছাড়া যেসব জায়গায় ওয়াশ ব্লক আছে, সেখানে সুপেয় পানিসহ হাত ধোয়ার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

দফা-৪: ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব– শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল পাঠ পরিকল্পনা ও লার্নিং এভিডেন্স ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা।

প্রস্তাবনা

‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আনবে, সন্দেহ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মেন্টরিং, মনিটরিং এবং ট্যাব সংক্রান্ত মেইনট্যানেন্স নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের জানামতে, বিগত সরকারের আমলে ক্রয় করা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ বিভিন্ন উপকরণ অনেক স্কুলে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এভাবে কখনও রাষ্ট্রীয় অর্থের গুরুতর অপচয় যাতে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দফা-৫: বহুভাষিক বাংলাদেশ– বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

প্রস্তাবনা

শ্রমবাজার ও পেশাভিত্তিক উচ্চ শিক্ষার (যেমন মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি) চাহিদা বিবেচনায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হলে আমাদের সন্তানদের জন্য সারা বিশ্বে বিচরণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক। তবে এই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করা সংগত বলে মনে করছি আমরা।

এদিকে বাংলা ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের চলমান দুর্বলতা কাটিয়ে উঠার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভাষা শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্স ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আদিবাসীদের ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে মাতৃভাষাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দফা-৬: ইনোভেশন স্পেস-প্রতিটি উপজেলায় স্কুলে ‘রোবোটিক্স ও মেকার কর্নার’ স্থাপন করা।

প্রস্তাবনা

স্কুলগুলোতে ‘ইনোভেশন স্পেস’ প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে। পিকেএসএফ’র উদ্যোগে এক সময় দেশের অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের সৎ ও মানবিক করে তোলার লক্ষ্যে ‘সততা স্টোরে’র মতো যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকেও উৎসাহিত করা যেতে পারে।

দফা-৭: খেলাধুলা বাধ্যতামূলক– মানসিক ও শারীরিক বিকাশে মাধ্যমিক স্তরের টাইমটেবিলে স্পোর্টস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রস্তাবনা

মানসিক স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও মেধা বিকাশের জন্য খেলাধুলা, জাতীয় সংস্কৃতি ও নতুন কুঁড়িসহ সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের নানাবিধ উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এইখানে সুর্নিদিষ্ট করে ধাপে ধাপে দক্ষ শিক্ষক দেওয়া আবশ্যক হবে। স্কাউট বা গার্লস গাইডের শিক্ষকদের আপাতত বিকল্প হিসেবে এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

দফা-৮: পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার (কারিকুলাম ও পরীক্ষা)– মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে আইটেম ব্যাংক ও লার্নিং ট্রাজেক্টরির মাধ্যমে দক্ষতা পরিমাপ করা।

প্রস্তাবনা

কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি রিভিউ করার সময় শ্রেণিকক্ষভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে দূর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা এবং সেইসব ক্লাসের শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রণোদনা/ভাতা দেওয়া যেতে পারে। কারিকুলাম রিভিউ করার ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করার সুপারিশ করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন কোনভাবেই অসংখ্য পরীক্ষার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে কোচিং ও গাইডনির্ভর হয়ে না উঠে, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।

দফা-৯: শিক্ষায় মানদণ্ড নির্ধারণ– সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার বৈচিত্র্য বজায় রেখে ‘ন্যূনতম শিখন মান’ এক করা।

প্রস্তাবনা

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমরাও বলতে চাই, বাংলাদেশে শিক্ষা প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় (কওমিসহ), ইংরেজি মাধ্যম এবং এনজিও পরিচালিতসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একটি বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মনিটরিং এবং মেন্টরিং সাপোর্ট দিতে পারে সেই ব্যবস্থাও রাখা প্রয়োজন। এর জন্য একটি ‘সমন্বিত শিক্ষা আইন’ সময়ের দাবি।

দফা-১০: ব্রিজ কোর্স– এক শিক্ষা ধারা থেকে অন্য ধারায় যাওয়ার পথ (স্কিল ক্রেডিট) সুগম করা ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রস্তাবনা

ব্রিজ কোর্স চালু করা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে শুরুতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে সেটিকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এরপর তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোনও ধরনের প্রফেশনাল অথবা বৃত্তিমূলক কোর্সে যুক্ত করা যেতে পারে।

দফা-১১: উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা– বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘জ্ঞান প্রতিষ্ঠানে’ রূপান্তরের লক্ষ্যে স্টুডেন্ট লোন ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট দেওয়া।

প্রস্তাবনা

অনুতাপের সঙ্গে বলতে হয়, গবেষণায় বরাদ্দ বরাবরই অপ্রতুল ছিল। তবে নতুন বরাদ্দের ক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণায় অভিজ্ঞ এবং ক্রেডিবল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। যেখানে সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তি পর্যায়ে পরিচালিত উন্নতমানের গবেষণাগুলোর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে জাতীয়ভাবে একটি ‘ডাটা ব্যাংক’ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি; যা আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়নে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।

দফা-১২: পাবলিক ড্যাশবোর্ড (জবাবদিহিতা)– মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মাসিক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি ও ক্লাসঘণ্টার জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

প্রস্তাবনা

এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যবহুল (আইপিইএমএস) নাগরিক ড্যাশবোর্ডটির মানোন্নয়ন এবং একইরকম ড্যাশবোর্ড সংশ্লিষ্ট সব দফতর/মন্ত্রণালয় অনুসরণ করার প্রস্তাব রাখছি।

গণসাক্ষরতা অভিযান বলছেন, আমরা অবগত আছি, আমাদের সংবিধানে শিক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত হলেও নাগরিকের অধিকার হিসেবে এখনও স্বীকৃতি পায়নি। সার্বিকভাবে শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠনের জন্য দেশি ও প্রবাসী শিক্ষাবিদ, অভিভাবক, গবেষক, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনের সমন্বয়ে ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি’ অতিদ্রুত গঠনের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত ‘কনসালটেশন কমিটি’ গুলোর রিপোর্টে উল্লেখিত সুপারিশগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

আমরা জানি, বর্তমান সরকার নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয় এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের কোনও বিকল্প নেই। শিক্ষার সব স্তরে সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে শিক্ষার মানকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে ঘাটতি পূরণে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার ৩০ শতাংশ ব্যবহার ও এডুকেশন কোর্স চালু করা যেতে পারে। প্রতিবেশি দেশ ভারতে এডুকেশন কোর্স (সারচার্জ) প্রবর্তন করে লক্ষাধিক কোটি টাকার ‘শিক্ষা সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে তাদের শিক্ষা বাজেটের অনেক ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরণের উদ্যোগ নিতে পারে।

আমরা মনে করি, বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সঠিক পদক্ষেপ/পরিকল্পনা গ্রহণের কোনও বিকল্প নেই।

বর্তমান সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে যে সব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো একটি দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরিচায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করাসহ জনঅংশগ্রহণভিত্তিক পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট কৌশল, যথাযথ বিনিয়োগ ও এর যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশকে একটি সাক্ষর, মানবিক, সাম্যভিত্তিক, সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করা সম্ভব। সবশেষে সরকারের সঙ্গে আমরাও বলতে চাই, শিক্ষা নিয়ে কোনও রাজনীতি চলবে না। শিক্ষাঙ্গন হোক মানবসক্ষমতা বিনির্মাণের কেন্দ্রবিন্দু, কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button